বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক পৃথক হামলা-সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পরে উপজেলার আমবৌলা গ্রামে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকে আব্দুল আলিম ফরাজির ছেলে সজল ফরাজির সাথে একই বাড়ির কাশেম ফরাজির বাকবিতন্ডা হয়। আলিম ফরাজি জানান, বাকবিতন্ডার একপর্যায় কাশেম ফরাজির নেতৃত্বে জুয়েল ফরাজি, শাহিন, রেজাউল ও তুহিন ফরাজির হামলায় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সজল ফরাজি (২৫), আবু মুসা ফরাজি (১৯), হায়দার আলী (৬৩), আবু তালহা (১০), ডালিয়া বেগম (৫৫), সাইফা আক্তার (১৪), আছিয়া বেগম (৪৫) এর হামলা চালায়। হামলায় ৮ জন আহত হয়। প্রতিপক্ষ কাশেম ফরাজি জানান, সালিশ বৈঠকে ঝগড়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
অন্যদিকে একইদিন উপজেলার চাউকাঠি গ্রামে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে কালাম হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারের সাথে একই এলাকার মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে আলামিন হাওলাদারের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায় আলামিন হাওলাদারের নেতৃত্বে মোহাম্মদ হাওলাদার, আলহাজ্ব হাওলাদার, রাছেল ও আরিফসহ ১০/১২ জন মিলে জলিল হাওলাদার (৪০), জলিলের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৫), জালাল হাওলাদার (৫০), রোমান হাওলাদার (২৪) এর উপর হামলা চালায়।
এছাড়া একইদিন বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামে রান্না করার জন্য লাকড়ি নিয়ে ঝগড়া হলে ইফাত সেরনিয়াবাত, আকবর সেরনিয়াবাত ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন বেগমের হামলায় একই বাড়ির প্রতিবন্ধী ফরহাদ সেরনিয়াবাত (৪০), মীর হান্নান (৪৫), সাইফা খানম (৪১) ঐশি ইসলাম (১৫), মেঘলা সেরনিয়াবাত (২২), মুন্নি আক্তার (১৭) আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রাজু বিশ্বাস জানান, হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক মোঃ গোলাম ছরোয়ার জানান, হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।