শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

ইসলামে শ্রমের গুরুত্ব

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

ইসলাম সবসময় জীবনমুখী দর্শন লালন করে। জীবনমুখিতার অন্যতম প্রধান দিক হলো কাজের মাধ্যমে অর্থ সংস্থান করা, যার মাধ্যমে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা যায়। তাই শ্রম আমাদের জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। ইসলামে শ্রমের গুরুত্ব খুবই বেশি। শ্রম দিলে সাহায্যের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয় না। অনর্থক, অনৈতিক কাজ থেকেও বেঁঁচে থাকা সহজ হয়। অলস মস্তিষ্ককে শয়তান বেশি ধোঁকা দিতে পারে। শ্রমের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো, যাতে তোমরা সফল হতে পার’ (সূরা জুমা, আয়াত ১০)।
এখানে অনুগ্রহ অনুসন্ধান করার দ্বারা অর্থনৈতিক কাজকর্মে লিপ্ত হতে নির্দেশ করা হয়েছে। তবে কাজকর্ম করতে গিয়ে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া যাবে না। অন্য দিকে অলসতার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলাম। পরনির্ভরতাকে চরম অপছন্দনীয় কাজ বলে ঘোষণা করেছে। স্বনির্ভরতা খুব ভালো উত্তম গুণ। নবী-রাসূলগণ সবাই শ্রমনির্ভর ছিলেন। নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। কুরআন ও হাদিসে শ্রমের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। মহানবী সা: বলেন, ‘লা রাহবানিয়্যাতা ফিল ইসলাম।’ ইসলামে কোনো বৈরাগ্যতা নেই। বৈরাগ্যতা মানুষকে মূলত কর্ম ও সমাজবিমুখ করে দেয়।
উপার্জন ও ব্যয় : দান-খয়রাত অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মানসম্মান লাভের মাধ্যম। দানের জন্য অর্থকড়ি লাগবে; তাই উপার্জন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করো এবং আমি যা ভূমি হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করে দেই তন্মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় করো’ (সূরা বাকারা, আয়াত ২৬৭)। এ আয়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, উপার্জিত সম্পদ থেকে যেন দান-খয়রাত করা হয়, আর উপার্জনটা হারাম না হালাল সেটাও যেন পরখ করে দেখা হয়।
পেশা নির্বাচন : মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরতের পর নবীজী সা: মদিনার ভূমিগুলো চাষাবাদ করার জন্য সাহাবিদের প্রতি খুব তাকিদ দিলেন। তবে তিনি মুসলমানদের শুধু নির্দিষ্ট কোনো পেশায় না থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। কর্মসংস্থানের পরিধি ব্যাপ্ত করতে বলেছেন। যেমন নবী-রাসূলদের ভিন্ন ভিন্ন পেশা ছিল। হজরত ইউসুফ আ: মিসর সম্রাটের বাড়িতে সেবকের কাজ করেছেন। হজরত শুয়াইব আ: ও হজরত সালেহ আ: ব্যবসা করেছেন। আর দাউদ আ:-এর কর্মকার হওয়ার বিষয়টি তো খুবই প্রসিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমি তাকে (দাউদ) তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে এটা তোমাদের যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৮০)। আমাদের নবী সা: তো অনেক পেশার কাজ করেছেন। যৌবনে তিনি খাদিজা রা:-এর কৃতদাস মায়সারার সাথে ব্যবসা করেছেন। পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণের কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। নিজে পাথর বহন করেছেন। টাকার বিনিময়ে মক্কার লোকদের বকরি চড়িয়েছেন।
সাহাবিদের কর্মপন্থা
সাহাবায়ে কেরামও নবীজী সা:-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। হজরত আবু বকর রা: ব্যবসা করেছেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রসংক্রান্ত কাজের জন্য বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়েছেন। হজরত ওমর রা:-ও ব্যবসা করেছেন। তিনি মুসলমানদের হালাল রিজিক অনুসন্ধানের জন্য কাজ করতে খুব উৎসাহ দিতেন। হজরত ওসমান রা: তিনি জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় সময়কালে কাপড়ের ব্যবসা করেছেন। আলী রা: তো বিনিময় হিসেবে কিছু খেজুর পাওয়ার জন্য কূপ থেকে পানি উঠানোর কাজ করতেন। খাব্বাব রা: কর্মকার ছিলেন; এটা অনেকেই জানেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: মেষ-বকরি চরাতেন। সাহাবায়ে কেরাম মূলত বিভিন্ন পেশার ছিলেন। আনসাররা সাধারণত কৃষিকাজ করতেন। আর মুহাজিররা সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। নবীজী সা: সব কাজই সমানভাবে উৎসাহিত করতেন।
উত্তম খাদ্য : মিকদাদ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেন, ‘এর চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই, যা মানুষ স্বহস্তে উপার্জনের মাধ্যমে করে। নবী দাউদ আ: নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন’ (সহিহ বোখারি, হাদিস ২০৭২)।
যেকোনো পেশা অবলম্বন করা হোক, তা যেন হালাল পন্থায় হয় সে দিকে সর্বোচ্চ দৃষ্টি দিতে হবে। কাজে ও চাকরিতে সততা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। কারণ, অবৈধ উপায়ে উপার্জিত সম্পদ পুরাই ধ্বংস। কোনো কল্যাণ নেই এতে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজী সা: বলেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ অর্জন করে, যদি তাকে সদকা করে দেয় তবে তা কবুল হবে না। আর যদি খরচ করে তাহলে তাতে বরকত নেই। মৃত্যুর পর রেখে গেলে তবে জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ’ (মুসনাদে আহমদ)।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English