রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

ঈমান ও ইসলাম চর্চা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭০ জন নিউজটি পড়েছেন

দ্বীন শব্দের অর্থ জীবনব্যবস্থা, যার দু’টি অংশ। প্রথমটি ঈমানি দাওয়াতের চর্চা এবং দ্বিতীয়টি ঈমানভিত্তিক ইসলামচর্চা। দীর্ঘ দিন ধরে ইসলামের চর্চা হয়ে এলেও ঈমানি দাওয়াতের চর্চা হচ্ছে না। আজ পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ ঈমান ও ইসলামের অর্থ না জানায়, ইসলামের গুণগত ও যথাযথ চর্চা হচ্ছে না। নিজ ভাষায় আল-কুরআনের মর্ম অনুধাবনের মাধ্যমে ঈমানদাররা চর্চা করলে অনেক ভেদাভেদের অবসান হবে এবং ঈমানদাররা একত্রিত হয়ে ইসলাম-ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।
আজ ইসলামী জীবনব্যবস্থা চর্চায় শুধু মুসলমানরা অন্তর্ভুক্ত, যাদের সংখ্যা খুব কম অথচ ঈমানি দাওয়াতের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে অংশগ্রহণের জন্য চেষ্টা করা যায়। আল্লøাহপাক যুগে যুগে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানুষের সাথে সৃষ্টিকর্তা তথা আল্লাহপাকের পরিচয় ঘটানোসহ ঈমানি দাওয়াতের চর্চা ও ইসলামী জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করেছেন। অথচ বর্তমানে ইসলামচর্চার দ্বারা দুনিয়াতে যথাযথভাবে কল্যাণকর ইসলামী জীবনব্যবস্থার মডেল বা আদর্শ গড়ে উঠছে না।
ইসলামী জীবনব্যবস্থার জন্য আমাদের দুই ধরনের কার্যক্রম থাকা প্রয়োজন। ঈমান গ্রহণের আগে সত্যপথ অনুসন্ধানের জন্য চেষ্টা, যাকে আমরা ঈমানি দাওয়াতের চর্চা বলতে পারি। আর এ জন্য সৃষ্টিকর্তা বা আল্লøাহর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে সঠিক পথের জন্য একান্তভাবে প্রার্থনা করতে হবে। এখন আমাদের কাজ হলো, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকৌশলের ওপর ভিত্তি করে প্রচারপত্র বিলি করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন গ্রেডের মান অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্রষ্টার সৃষ্টিকৌশলের ওপর সিলেবাস তৈরি করে পাঠ্যক্রম চালু করা। এ ছাড়াও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জানাতে পারি।
ঈমানি দাওয়াতের চর্চা ও ঈমানভিত্তিক ইসলামচর্চার মধ্যে পার্থক্য : ১. ঈমানচর্চার ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তাকে এক বা এককভাবে সমস্ত সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা এবং সে মহান সত্ত্বাকে ঈমানি দাওয়াতের একক পরিচালক ভাবতে হবে। ইসলামচর্চার ক্ষেত্রে আল্লøাহপাক হজরত মুহাম্মদ সা:-কে রাসূল হিসেবে ওসিলা করে আল-কুরআনের মাধ্যমে ঈমানভিত্তিক ইসলামচর্চার নির্দেশনা দান করেন।
২. ঈমানচর্চার ক্ষেত্রে সত্যপথ-সঠিকপথ-নাজাতের পথ-মুক্তির পথ (সিরাতল মুস্তাকিমের পথ) তালাশ করতে চাইলে সৃষ্টিকর্তা তাকে সত্যপথের সন্ধান দেন, যাকে আমরা হিদায়াত বলে থাকি। ঈমানভিত্তিক ইসলামচর্চার জন্য আল-কুরআনের মর্ম অনুধাবনপূর্বক নিজ ভাষায় চর্চা করতে হবে, অন্যকে চর্চার জন্য উৎসাহিত করতে হবে এবং যৌথভাবে ধৈর্যের সাথে ইসলামী পরিবেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে।
৩. ঈমানি দাওয়াতের চর্চার জন্য বান্দাকে সমস্ত সৃষ্টিজগতের স্র্রষ্টা আল্লøাহপাকের কাছে সম্পূর্ণ বিশ্বাস, আস্থা ও নির্ভর করতে হবে এবং এতদবিষয়ে আলোচনা করতে হবে অন্যকে দাওয়াত দিতে হবে। ইসলাম চর্চার ক্ষেত্রে : কুরআন ও সুন্নাহর আদেশ-নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা। যার মধ্যে আল্লøাহপাক কর্তৃক সফলতা আশা করা যায়।
৪. ঈমান অর্জনের জন্য আল্লøাহর কুদরত সম্পর্কে জানা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে চিন্তাভাবনার দরকার। হজরত মুহাম্মদ সা: এবং তার অনুসারীদের জীবন ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
৫. ঈমানচর্চার ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠত্ব জানার জন্য পড়াশোনা, আলোচনা, গবেষণা, চিন্তাভাবনা করে ঈমানি পরিবেশ গড়তে হবে। ইসলামচর্চার ক্ষেত্রে ওহিভিত্তিক কিতাব আল-কুরআন এবং রাসূল সা:-এর সুন্নাহ চর্চার মাধ্যমে আল্লøাহর আদেশ-নিষেধের বাস্তবায়ন করতে হবে, অর্থাৎ ইসলামী জীবনব্যবস্থা গড়তে জীবন ও সম্পদের কোরবানি করতে হবে।
৬. ঈমান চর্চার ক্ষেত্রে আখিরাতে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার কথা চিন্তা করে আল-কুরআন অনুযায়ী জীবনচর্চার মানষে যথাযথ ঈমান আনার পথ প্রশস্ত হবে। ইসলামচর্চার ক্ষেত্রে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবনের কর্মকাণ্ড ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মডেল। বর্তমানে যদিও অনেক ভেদাভেদ রয়েছে। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর আলোকে অনেক মৌলিক বিষয় একমত হয়ে ইসলামী জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তৌহিদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, অশ্লীলতা-বর্জিত সংস্কৃতিচর্চা, সুদ-বর্জিত অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি, আইন ও বিচার ব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রবর্তন ইত্যাদি।
৭. ঈমানি কার্যক্রম যুক্তি-তর্ক ও গবেষণাভিত্তিক হয়ে থাকে। ইসলামী কার্যক্রম কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হয়ে থাকে।
৮. ঈমানি দাওয়াতের চর্চা সৃষ্টিকর্তার সহনীয় দৃষ্টিতে দেখেন। ইসলামী কার্যক্রমে ভুলত্রুটির সতর্কতা আবশ্যক।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে আল্লøাহর কুদরত আমাদের নজরে আসছে এবং ভবিষ্যতে আরো আসতে থাকবে। যার দ্বারা আল্লাহপাকের পরিচয় আমরা তুলে ধরতে পারি। হজরত ইবরাহিম আ: থেকে হজরত মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত ঈমানি দাওয়াতের চর্চার একই বাণী ছিলÑ ‘কালিমা তৈয়িবা’। নবী-রাসূলদের (জামানায়) সাহচর্যে এবং বিভিন্ন মোজেজার মাধ্যমে মানুষ আল্লøাহপাককে জানত। পরবর্তীতে সাহাবা আজমাইন তাবেইনদের মাধ্যমে ঈমানচর্চার ধারাবাহিকতা চালু ছিল। কিন্তু আজ ১৪০০ বছর পর তা হচ্ছে না। বিজ্ঞানের অগ্রগতির এ সময়ে সাংগঠনিকভাবে ঈমানচর্চা না হওয়ায়, মানুষ আস্তে আস্তে নাস্তিক ও ভোগবাদী হয়ে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে আরো অবনতির দিকে ধাবমান হচ্ছে।
ঈমান : অর্থ আস্থা স্থাপন, বিশ্বাস, নির্ভর করা বুঝায়। প্রশ্ন হচ্ছেÑ কার ওপর বিশ্বাস করব? কুরআনের শুরুতেই গায়েব বা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনতে বলা হয়েছে। পৃথিবীর সব কে সৃষ্টি করেছেন? আমরা যা সৃষ্টি করতে পারি না অথচ আদিকাল থেকে তা সৃষ্টি হয়ে এসেছে। সেই প্রাথমিক ধারণায় সৃষ্টির স্র্রষ্টাই গায়েব। সে সত্ত্বা এক এবং একক। আল-কুরআন থেকে আমরা আরো জানতে পারিÑ আল্লøাহর ওপর, ফেরেশতাদের ওপর, কুরআনসহ সব আসমানি কিতাবের ওপর, নবী-রাসূলদের ওপর, পরকালের ওপর, তাকদিরসহ মৃত্যুর পর পুনঃউত্থানের ওপর, বিচার দিবসের ওপর সম্পূর্ণ আন্তরিক ও একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাস স্থাপন করাকেই ঈমান বোঝায়।
বর্তমান বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষই সৃষ্টিজগতের একক সত্ত্বাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করলেও বেশির ভাগ মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে জীবন ব্যবস্থার বিধানদাতা হিসেবে বিশ্বাস করে না। অথচ আল-কুরআনে মানুষের জীবন ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রের বিধিবিধান উল্লেখ রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহপাকই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক এবং তাঁরই দেয়া জীবনব্যবস্থা, বিধিবিধান, আইনকানুন তথা করণীয় বর্জনীয় ঈমানদাররা বাস্তবায়ন করে এক ইনসাফবিহীন বস্তবাদী-ভোগবাদী সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশ্বে ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে পরকালে মুক্তির চেষ্টা করবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English