বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

একজন মানবতার হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জী

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ এস এম শামীম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন
একজন মানবতার হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জী

জীবনের ৪৫ বসন্ত পেরিয়ে একজন প্রজ্ঞাশীল ব্যক্তিত্ব, স্বল্পভাষী ও সৎ আদর্শের প্রতিকৃতি হয়ে শিক্ষক এবং বিনামূল্যে রোগীদের সেবা দিয়ে হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জী জীবনের বর্তমান প্রান্তে অবস্থান করছেন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজে একজন দক্ষ শিক্ষক ও চিকিৎসক হিসেবে ইতিমধ্যে জীবনের অর্ধেকটা সময় পার করে এসেছেন তিনি। শুধু মাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেবা দিয়ে নয় অবদান রেখেছেন জাতির অগ্রগতি সাধনে মানুষ তৈরীর একজন কারিগর হিসেবে।

তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কালুপাড়া এলাকার নিজস্ব চেম্বারে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সুনাম তিনি কুড়িয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যায়, তিনি তাঁর চিকিৎসা পেশাগত জীবনে অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা বাবদ আজও তিনি কোন টাকা গ্রহন করেননি। তিনি যখনই পেরেছেন সাধ্য অনুযায়ী সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার কাঠিরা গ্রামের ননী হালদার জানান, হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জী একজন স্বল্পভাষী মানুষ ও একজন দক্ষ চিকিৎসক। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগে ভুগতে ছিলাম। সম্প্রতি আমার ডান পায়ের একটি আঙ্গুলে পঁচন ধরে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁরা আমাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আমি তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলে তাঁরা আমার পা থেকে অপারেশনের মাধ্যমে আঙ্গুলটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপরও আমার অন্য আঙ্গুলের পঁচন না থামলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তাঁরা আমার পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়। এতে আমি হতাশ হয়ে পরি।

পরবর্তীতে হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জীর চেম্বারে এসে আমার পায়ের আঙ্গুলে পঁচন ধরা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে পা কেটে ফেলার বিষয়টি তাঁকে অবহিত করি। তিনি আমাকে রোগের লক্ষণ অনুযায়ী বেশ কিছু হোমিও ঔষধ বিনামূল্যে দিয়ে সেবনের পরামর্শ দিলেন। আমি তাঁর চিকিৎসায় নিয়মিয় ঔষধ সেবনের কারনে ১ মাস ১০ দিনের মধ্যে আমার পঁচন ধরা পায়ের আঙ্গুলটি সম্পূর্নরুপে ভালো হয়ে যায়। যাতে করে আর আমার শরীর থেকে পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়নি। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

কালুপাড়া গ্রামের সাহিদা বেগম জানান, অনেকদিন যাবৎ আমি ডায়াবেটিস রোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগতে ছিলাম। হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জীর কাছে আসলে তিনি আমাকে বিনামূল্যে ঔষধ দিয়ে নিয়মিত সেবনের পরামর্শ দেয়। আমি বর্তমানে তাঁর দেয়া ঔষধ সেবন করে অনেকটা সুস্থ হয়েছি।

এ বিষয়ে হোমিও চিকিৎসক জনার্দ্দন চ্যাটার্জী বলেন, মানব সেবা করতে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। মানুষের আশির্বাদ আর ভালোবাসাই আমার মূল লক্ষ্য। শুধু চিকিৎসা সেবা দিয়েই নয় কর্মময় জীবনে গৌরনদী আমেনা বেগম হোমিওপ্যাথিক কলেজে শিক্ষকতা করছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কয়েকটি হোমিওপ্যাথি ঔষধ সেবনের মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমও বৃদ্ধি করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, হোমিওপ্যাথির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ফলে চিকিৎসায় সুফল না এলেও ক্ষতির আশঙ্কা শূন্য।

হোমিওপ্যাথি ঔষধের মূল্যও সাধারণের হাতের নাগালে। যারা আগ্রহী হন তাদেরকেই আমি ঔষধ দিয়ে থাকি এবং বেশিরভাগ মানুষই উপকার পেয়ে থাকেন বলেই পরবর্তীতে তাঁরা আমার কাছে আবার আসে। এদিকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় খরচ খুবই কম হওয়ায় রোগীরা সহজেই তা নিতে পারছেন বলেও জানান তিনি। আর যে সব রোগী অর্থের অভাবে চিকিৎসা অথবা ঔষধ কিনতে পারে না তাদেরকে সবসময় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করে থাকি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English