বগুড়ার শেরপুরে ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী সুমনা আকতার (১৭) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে রাজশাহীর সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে বিক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিয়াম হাসান এ তথ্য দিয়েছেন।
শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, সুমনা আকতার উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চকপোতা গ্রামের ব্যবসায়ী শামছুল হকের মেয়ে এবং শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করে।
মাদ্রাসার ছাত্রী হলেও তার চলাফেরা খুবই আধুনিক। সুমনা গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার ‘পুতুল রানী’ ফেসবুক আইডিতে ধর্ম নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কটূক্তি করে। সেটি ভাইরাল হলে ওই রাতেই বিক্ষুব্ধরা বিচারের দাবিতে তার বাবার বাড়ি ঘেরাও করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনাকে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সুমনার বাবা শামছুল হক তার মেয়ের অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় তিনিও মেয়ের শাস্তি চান। পুলিশ রাতেই তাকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বোনের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি সোমবার রাতে তার বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে এবং ৩১ ধারায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিয়াম হাসান কালিয়াকৈর থেকে তাকে বগুড়ায় নিয়ে আসেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সুমনা আকতারকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। বিকালে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বয়স কম হওয়ায় আদালত তাকে রাজশাহীর সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, বাবা-মায়ের ডিভোর্স ছাড়াও সংসারে নানা অশান্তির কারণে সুমনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণেই হয়তো সে ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে।