শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

করোনাকালেও শীর্ষ ১০ ধনীর বাজিমাত

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪০ জন নিউজটি পড়েছেন

২০২০ সালের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারিতে চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যে নিপতিত হতে হয়েছে। অথচ এ সময়েও বড় অঙ্কের মুনাফা ভাগিয়ে নিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা। গত মার্চ থেকে যখন লকডাউনে একের পর এক শহর জনশূন্য হয়ে যায় তখনই ফুলেফেঁপে ওঠে তাঁদের ব্যবসা। ফোর্বস ম্যাগাজিনের দেওয়া আর্থিক হিসাব ব্যবহার করে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার এ সময়ে গত ৯ মাসে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী কামিয়ে নিয়েছেন ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।

ক্যামপেইন গ্রুপ আমেরিকানস ফর ট্যাক্স ফেয়ারনেসের এক হিসাবে আমেরিকার ৬৫১ বিলিয়নেয়ারের সম্মিলিত সম্পদ বেড়েছে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম নেতা ফ্রাংক ক্লেমেন্টে বলেন, ‘করোনা মহামারির ৯ মাসে মানুষ যখন সংকটে তখন ধনীদের সম্পদ এত ব্যাপকভাবে বেড়েছে যে তাঁরা চাইলে নিজেরাই একটি প্রণোদনা দিতে পারেন। তাঁরা প্রত্যেক পুরুষ, নারী ও শিশুর জন্য তিন হাজার ডলার করে প্রণোদনা দিতে পারেন।’

বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজস। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বেজসের সম্পদ মার্চ থেকে ৯ মাসে ৭০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ১৮৫ বিলিয়ন ডলার। করোনায় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে পড়ায় তাঁরা ই-কমার্সেই কেনাকাটা সেরেছেন। সেই সুযোগে বিশ্বজুড়ে বিপুল অঙ্কের ব্যবসা করেছে অ্যামাজন।

করোনার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে ইলেকট্রিক গাড়ি কম্পানি টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এলন মাস্কের। গত মার্চে যেখানে তাঁর সম্পদ ছিল মাত্র ২৫ বিলিয়ন ডলার। ৯ মাসে সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাত্ তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। এমনকি বিশ্বের ৩৫তম ধনী থেকে তিনি এখন দ্বিতীয় বৃহত্ ধনী। মূলত তাঁর এ নাটকীয় উত্থানের কারণ করোনায় পরিবেশ সচেতনতায় দেশে দেশে সরকারগুলো ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর জোর দিয়েছে, দিয়েছে নানা সুবিধা। ফলে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন দেশে কেনা হচ্ছে ইলেকট্রিক গাড়ি, যা টেসলার ব্যবসা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। এতে শেয়ারবাজারেও গত মার্চ থেকে কম্পানির দর বেড়েছে সাত গুণ।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ধনী বার্নার্ড আর্নল্ট। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁর সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি ফরাসি বিলাসী পণ্যের ব্র্যান্ড এলভিএমএইচের সিইও। মার্চে তাঁর সম্পদ ছিল ৬৯ বিলিয়ন ডলার। ৯ মাসে ৭৯ বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ১৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তিনি হয়েছেন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্ ধনী।

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যিনি মানুষকে করোনা মুক্তি দিতে টিকা নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছেন। এ খাতে দান করেছেন বিপুল অঙ্কের অর্থ। তার পরও এই সময়ে তাঁর সম্পদ ২০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ১২০ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্ ধনী। যদিও একসময়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন। কিন্তু দানের কারণে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন।

বিশ্বজুড়ে আলোচিত সমালোচিত ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ। করোনার এই সময়ে তাঁর সম্পদ প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ ওয়ারেন বাফেটের সম্পদ ২৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্পদ ৫০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৮ বিলিয়ন ডলার। গুগলের ল্যারি পেজের সম্পদ ৫০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৬ বিলিয়ন ডলার। একই প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা সার্জে ব্রিনের সম্পদও একই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৭৪ বিলিয়ন ডলার। ইনডিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা অ্যামানসিও ওর্তেগার সম্পদ ৪৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। সূত্র : গার্ডিয়ান।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English