১৬ অক্টোবর ২০২০। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একইভাবে ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবসও। এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ।’ এ বছর বিশেষ দিনটি পালিত হচ্ছে চলমান অতিমারির মধ্যে।
এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসে প্রতীয়মান হয়েছে, খাদ্য, পুষ্টি ও কৃষিসম্পদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর যুদ্ধে। পুষ্টি ও খাদ্যাভাসও বিশেষ ভূমিকা রাখছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই অতিমারি থেকে আমাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামে।
খাদ্য ও কৃষি ক্ষেত্রের মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি খাতে মূল কান্ডারি যারা, অর্থাৎ কৃষক থেকে শুরু করে প্রস্তুতকারক, পুষ্টিবিদ, পরিবহন, বিক্রেতা, এমনকি রান্না অর্থাৎ খাদ্যপ্রস্তুত, রন্ধনবিদেরও ভূমিকা অপরিসীম।
অতিমারি আমাদের শিখিয়েছে প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্ট ফুড বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করে দেশি সহজলভ্য, স্বল্প মূল্যের, পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের প্রতি আগ্রহী হতে। কারণ, এসব খাবার খুবই সহজে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব, উপরন্তু এসব খাবার আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও স্বাভাবিক পুষ্টিচাহিদা পূরণ করে একটি সুস্থ স্বাভাবিক জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে একটি দেশ ও সমাজের বিভিন্ন খাদ্যশিল্পকে যথাযথ মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ পুষ্টিচাহিদা পূরণে আমাদের সচেতন হতে হবে।
গর্ভবতী মা থেকে শুরু করে পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিকেও সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে ঘরের সবাই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যদ্রব্য কেনা, তৈরি ও গ্রহণে উত্সাহিত হয়। এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তা, ভোক্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাইকে।
খাদ্য ও পুষ্টিসংক্রান্ত সঠিক তথ্যটি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে হ্যান্ডবুক, পোস্টার, ওয়েবসাইট; আয়োজন করা যেতে পারে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম। একটি জাতির সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিমান বজায় রাখতে অবশ্যই সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। ভেজালবিহীন দেশি সহজলভ্য খাবার যা আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেসব খাবার আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে। অন্যদিকে আমাদের সঙ্গে যায় না ও সহজলভ্যও নয়, এমন বিদেশি খাবার গ্রহণে বিরত থাকতে হবে।