রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন

করোনা চিকিৎসা বর্জ্যের ৯৩ ভাগই ব্যবস্থাপনাহীন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৮ জন নিউজটি পড়েছেন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত চিকিৎসা বর্জ্যের মাত্র ৬ দশমিক ৬ ভাগের সঠিক ব্যবস্থাপনা হয়। বাকি ৯৩ দশমিক ৪ ভাগ বর্জ্যই সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় নেই। ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি পরিচালিত কভিড-১৯ মহামারিকালে কার্যকর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ২০ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণার ফল সোমবার এক ওয়েবিনারের মাধ্যমে প্রকাশ করে ব্র্যাক।

ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে, সারাদেশে চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ২৪৮ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মাত্র ৩৫ টন (১৪ দশমিক ১ শতাংশ) সঠিক নিয়মে ব্যবস্থাপনার আওতায় ছিল। এর অধিকাংশই আবার রাজধানী শহর ঢাকায় সীমাবদ্ধ এবং মাত্র একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপসারণ ও শোধন করা হয়। বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাপনা থাকলেও তা বিনষ্ট বা শোধন করার নিজস্ব কোনো ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর নেই।

ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন প্রমুখ।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মানুষ বাড়তে থাকায় বর্জ্যও বাড়ছে। এ বিষয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনার ঘাটতি আছে। এর কারণ আগে থেকে গুরুত্ব না দেওয়া, জনগণের অসচেতনতা, প্রযুক্তির অভাবসহ আরও অনেক কিছু। এখন যোগ হয়েছে মেডিকেল বর্জ্য। এখন নিয়ম করা হচ্ছে- প্রতিটি হাসপাতালে এই বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

আসিফ সালেহ বলেন, গত মে মাসে শুধু ঢাকাতেই তিন হাজার টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এই বর্জ্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্র্যাক জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার চলতি বছরের ৩০ মে থেকে ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। তবে ৮২ দশমিক ১ ভাগ মানুষের কাছে এটি অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এসব সুরক্ষাসামগ্রী পুনর্ব্যবহার করেন।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই সমস্যার মোকাবিলায় চারটি বিষয়ে জোর দিতে হবে। সচেতনতাকে অভ্যাসের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, সকলের উদ্যোগের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা অর্জন, লাগসই সমাধানের কৌশল নির্ধারণ। এই দায়িত্ব পালনে সুস্পষ্ট বিভাজন দরকার। স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মিলে এই সমন্বয়ের পদক্ষেপ নিতে পারে।

ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ বলেন, বিদ্যমান কাঠামোয় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা উদ্যোগ নেই, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্র্যাকের মতো উন্নয়ন সহযোগীকে পাশে চায় পরিবেশ অধিদফতর।

মো. বদরুল আমিন বলেন, কাভিড-১৯ সংক্রান্ত বর্জ্য গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এগুলো আলাদা করা যাচ্ছে না। হাসপাতালের বর্জ্যও সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চলে যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সংশ্নিষ্ট অধিদফতরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের বর্জ্য আলাদাভাবে হস্তান্তর করা হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করা দরকার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English