শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

কিশোর অপরাধ রোধে ইসলামী নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন
ইসলাম

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অন্যায় ও পাপ কাজ দেখলে লোকেরা যদি তা থেকে বাধা না দেয়, নির্মূল করতে চেষ্টা না করে, তাহলে অচিরেই তারা আল্লাহর আজাবে পতিত হবে।’ তিরমিজি। কিশোরদের অপরাধ দমনে কার্যকর শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। ইসলামী বিধান অনুযায়ী তাই প্রথমত পিতা-মাতাকে বিশেষভাবে সন্তানের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সে কোথায় যায়, কী করে, কোন বন্ধুদের সঙ্গে চলাচল। মোবাইল ফোন ও মাদকে আসক্ত কি না, এ ছাড়া কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত কি না, এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। অপরাধ করলে শাসন থেকে একবারে উদাসীন হওয়া যাবে না। আবার শাসনের নামে অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। বিপথগামী সন্তানকে রক্ষা করা পরিবারের দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছেন কঠোর ফেরেশতাকুল, আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদের আদেশ করা হয়।’ সুরা তাহরিম, আয়াত-৬।

কিশোর গ্যাং থেকে রক্ষা করার জন্য নিজ সন্তানকে সময় দিতে হবে। তাকে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া জরুরি। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, নামাজসহ অন্য ইবাদতে অভ্যস্ত করে ধর্মীয় শিক্ষায় তাকে শিক্ষিত করতে হবে। নিজ আত্মীয়, প্রতিবেশী ও সমাজের সৎ, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি ও মেধাবী ভালো বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে। গুরুজনদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে সেসব আদব শিক্ষা দিতে হবে। জ্ঞানী মনীষীদের বই ও তাদের জীবনী পাঠে উৎসাহিত করে সমাজ ও বংশের মুখে দাগ লাগে এ রকম সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা জরুরি। সন্তানের উপরে স্নেহের হাত ও ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়া সাওয়াবের কাজ।

বুখারি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের সন্তানদের স্নেহ কর এবং তাদের ভালো ব্যবহার শেখাও।’
কিশোররা সমাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব, অ্যাপ ও ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে অপরাধ করে থাকে। বড়রা কিশোরদের দিয়ে অপরাধ করিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নেয় এবং তাদের অপরাধ করতে উৎসাহিত করে। কিশোরদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য বড়দের নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসা জরুরি। সমাজে যারা অপরাধে যুক্ত তাদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা করে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশু-কিশোরদের পাশে দাঁড়িয়ে উপকার করা সময়ের দাবি। কোনো অবস্থাতে যেন কিশোররা অপরাধে যুক্ত হতে না পারে সেজন্য সমাজে সংগঠন তৈরি করে কিশোর গ্যাংসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়। দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলেই কিশোর গ্যাংসহ কিশোরদের সব অপরাধ মুক্ত হবে। কিশোররা ফিরে পাবে নিরাপদ ও সুখী জীবন এবং আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ। যেহেতু কিয়ামতে আল্লাহ দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইবে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর এ ব্যাপারে প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।’ বুখারি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English