শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

কৃষির উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১২ কোটি ডলার সহায়তা

অর্থনৈতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১
  • ১৩৯ জন নিউজটি পড়েছেন
শরণার্থী নীতি পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো সুপারিশ নেই: বিশ্বব্যাংক

জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং সেচযুক্ত কৃষি ও মৎস্য চাষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্য সুরক্ষা উন্নয়নে ১২ কোটি ডলার বা ১ হাজার ২০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (১০ মার্চ) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অর্থ পরিবেশবান্ধব স্মার্ট কৃষি এবং পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং পাবলিক ফ্লাড কন্ট্রোল, ড্রেনেজ এবং ইরিগেশন (এফসিডিআই) প্রকল্পকে আরও আধুনিকায়ন করবে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করবে। এর ফলে বন্যায় ফসলের ক্ষতি ৬০ শতাংশ কমে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে অর্ধেকই হবেন নারী। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে দাবি করে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ-ভুটান) মার্সি টেম্বন বলেন, এই প্রকল্প জলবায়ু-নির্ভরশীল পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কৃষি উৎপাদনশীলতার সঙ্গে মিলিয়ে আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে, জীবিকা রক্ষা করবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি স্থিতিশীলতা তৈরি করবে।

প্রকল্পটি পুনর্বাসনের জন্য দরিদ্র ও জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি রয়েছে এমন ১৯টি অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষকদের জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, নতুন ফসলের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফসল কাটার পর পরিচালনার প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। প্রকল্পটি ধান ও মাছ / চিংড়ি চাষের উন্নয়নসহ উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা স্থাপন এবং স্থানীয় বাজারের উন্নতি করা হবে। এর ফলে মাছের উৎপাদনে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চালের উৎপাদন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র কৃষি বিশেষজ্ঞ ও টাস্ক দলের প্রধান আবেল লুফা বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে বর্ষা সময়কালে অতিরিক্ত পানি এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে পানি ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে তাদের দক্ষতা উন্নত হবে। বিশ্বব্যাংকের অঙ্গভুক্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) তহবিল থেকে এ ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ নিয়ে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটির। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার আন্তযোগাযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা ঞয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য ১৭২ শতাংশ থেকে ২৯৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। দুদেশের মধ্যে নির্বিঘ্নে পণ্য পরিবহন চালু হলে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে, বলছে বিশ্বব্যাংক। ‘কানেক্টিং টু থ্রাইভ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ অব ট্রান্সপোর্ট ইন্টিগ্রেশন ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল মটর ভেহিক্যালস এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে এর তুলনা এবং অভিন্ন আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ পর্যালোচনা করা হয়।

এতে বলা হয়, এখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ১০ শতাংশ এবং ভারতের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের এক শতাংশ। অথচ পূর্ব এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনীতিতে ক্রস বর্ডার বা আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য যথাক্রমে ৫০ শতাংশ এবং ২২ শতাংশ। ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান ব্রাজিল কিংবা জার্মানির কোনো কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে বা বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম ব্যয়বহুল হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ট্যারিফগুলো রয়েছে তা বিশ্বের গড় ট্যারিফের তুলনায় দ্বিগুণ।

বিশ্বব্যাংকের আগের একটি পর্যালোচনার কথা তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি ১৮২ শতাংশ এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি ১২৬ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে পণ্যপরিবহন কানেক্টিভিটি উন্নত করা গেলে বাণিজ্য আরও বাড়ানো যাবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২৯৭ শতাংশ এবং ভারতের ক্ষেত্রে ১৭২ শতাংশ বাড়ানো যাবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের আবাসিক প্রতিনিধি মার্শিয়া টেম্বুন বলেন, ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত, নেপাল, ভুটান ও অন্যান্য পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটা গেটওয়ে হিসাবে রয়েছে। বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য, ট্রানজিট ও অন্যান্য লজিস্টিক নেটওয়ার্ক বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কেন্দ্রশক্তি হিসাবে পরিচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, পূর্ণ উদ্যোমে অঞ্চলিক যোগাযোগ সৃষ্টি করতে হলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। দেশদুটিকে অবকাঠামোগত ত্রুটি, নীতি ও বিধিমালার সংস্কার, শূল্কায়ন ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধান করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English