শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে অস্পষ্টতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৮ জন নিউজটি পড়েছেন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বিপাকে গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা সেবা ক্রয়ের সুযোগ বন্ধ করা হয়নি : বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবার বৈধ কেনাকাটা করতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড (আইসিসি) ব্যবহারের বিকল্প নেই। আধুনিক বিশ্বে ক্রেডিট কার্ডকে বলা হয় প্লাস্টিক মানি। হাতে নগদ টাকা না থাকলেও এ কার্ডের মাধ্যমে অনায়াসেই কেনাকাটা করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পর তার ওই টাকা পরিশোধ করা যায়। দ্রুত লেনদেন, নগদ অর্থ বহন থেকে ঝুঁকিমুক্ত এবং অধিকতর নিরাপদ হওয়ায় প্রতিদিনই জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড।

বাংলাদেশেও গ্রাহকরা দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নানা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করছেন। তবে ক্রেডিট কার্ডের আন্তর্জাতিক লেনদেনে সম্প্রতি এক নির্দেশনা নিয়ে গ্রাহক ও ব্যাংকারদের মধ্যে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থানের উদ্ভব হয়েছে। নির্দেশনায় অনলাইন কেনাকাটায় এক লেনদেনে ৩শ’ ডলারের অতিরিক্ত খরচ রোধে ‘সতর্ক’ থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন অস্পষ্ট নির্দেশনায় বিপাকে পড়েছে ব্যাংকার ও গ্রাহক। ‘সতর্ক’ থাকতে বলা হয়েছে কিন্তু এক্ষেত্রে কী করণীয় এ রকম কোনো উত্তরই গ্রাহকদের দিতে পারছে না ব্যাংকাররা। আর তাই এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

এমন নির্দেশনায় শুধু দেশি গ্রাহকরাই যে বিপদে পড়ছে- তা নয়। বাংলাদেশে যেসব বিদেশিরা অবস্থান করছেন, তারাও বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। কারণ হোটেল বুকিংসহ একটু দামি পণ্য কিনতে গেলেও বারবার অনুমতি নিতে হয় ব্যাংকের। অথচ সরকার উদার বিনিয়োগ নীতিকে উৎসাহিত করছে। একটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা সিমরান রায় কয়েক বছর ধরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। অনলাইনে কিংবা দোকানে গিয়ে কেনাকাটা উভয়ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন তিনি। এর বাইরে বিমান টিকেট এবং বিদেশ সফরে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও তার ভরসা ক্রেডিট কার্ড। নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা নেই আর পর্যাপ্ত টাকা হাতে না থাকলেও পরে দেয়ার সুবিধার কারণেই তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এককালীন ৩শ’ ডলারের বেশি লেনদেন নিয়ে কড়াকড়িতে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে।

সিমরান বলেন, একটি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি বা হোটেল বুকিং কি কোনোভাবে ৩শ’ ডলারের মধ্যে সম্ভব। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়েই প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের চিন্তাও বাদ দিতে হয়। তবে এটা শুধু সিমরানের ক্ষেত্রেই নয়; তার মতো অনেক গ্রাহকই প্রতিদিন এভাবে বিপাকে পড়ছেন। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্রয় করতে পারছেন না প্রয়োজনীয় পণ্যটি। এ বিষয়ে একাধিক ব্যাংকার বলেন, নির্দেশনায় কোনো কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি। এতে গ্রাহকরা প্রয়োজন হলেও ৩শ’ ডলারের বেশি একাকালীন লেনদেন করতে পারছেন না। ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অনুমোদন দিলেও পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জেরা ও হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে। আর তাই উপায় না পেয়ে ব্যাংকাররা গ্রাহকদের সাহায্য করছেন না। কারণ তাহলেই হয়ত তাকে বিপাকে পড়তে হবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, সতর্ক থাকতে বলা মানে ৩শ’ ডলারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না, তা নয়। অবশ্যই হোটেল বুকিং বা পণ্য ক্রয়ে এর থেকে বেশি ডলারের প্রয়োজন হয়। গ্রাহক অবশ্যই তার স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে পারবে। তবে যাতে কোনোভাবে এ সুযোগের অপব্যবহার বা অর্থ পাচার না হয় সে জন্য ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক পণ্য কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকদের লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকের এককভাবে কোনো পণ্য বা সেবামূল্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩শ’ ডলার পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বছরে তা কোনো অবস্থাতেই এক হাজার ডলারের বেশি হবে না। কিন্তু সম্প্রতি সব ব্যাংকের কাছে জারিকৃত এক নির্দেশনায় অনলাইন কেনাকাটায় এক লেনদেনে ৩শ’ ডলারের অতিরিক্ত খরচ রোধে সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা। প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ক্রয়ে এককালীন অনলাইন লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩শ’ ডলার নির্ধারণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। তবে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা, ক্রিপ্ট কারেন্সি ও লটারির টিকেট কেনার কাজে এ কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ না থাকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তাদের মতে, এই সীমা তুলে দেয়া উচিত। কারণ হোটেল বুকিংসহ অনেক প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৩শ’ ডলারের অধিক। যা সুযোগ দিয়েও হাত-পা বেঁধে দেয়ার মতো। তাই এ ধরনের নীতিমালা থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন গ্রাহকসহ সেবা প্রদানকারী ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয়, হোটেল বুকিং, বিদেশে শিক্ষাগ্রহণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ/সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ ফি দেয়া যাবে। তবে তা এককালীন ৩শ’ ডলারের বেশি হলে নিতে হবে ব্যাংকের অনুমতি। এক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গ্রাহকদের অনলাইন ট্রানজেকশন অথরাইজেশন ফরম বা ওটিএএফ পূরণ করে ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হবে। এরপর ব্যাংক সেটি যাচাইবাছাই করে কোনো অসঙ্গতি না পেলে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের ওই ডলার ব্যবহারের অনুমতি পাবেন। তবে এসব জটিলতা ও ব্যাংকে নানা বিড়ম্বনায় প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা ক্রয়ের আগ্রহই হারিয়ে ফেলছেন গ্রাহক। আর এতে গ্রাহক-ব্যাংকার সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে প্রতিদিনই। তার মানে এই না পণ্য ক্রয় ও সেবা ৩শ’ ডলারের বেশি করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সতর্কতা অর্থ এ নয় যে, গ্রাহকরা ৩শ’ ডলারের বেশি অনলাইনে এককালীন পণ্য বা সেবা ক্রয়ে করতে পারবে না। তাই নির্দেশনাকে ভুল বলা যাবে না। কারণ ৩শ’ ডলারের বেশি সেবা নিতে নিষেধ করা হয়নি বা সীমাবদ্ধ করা হয়নি। মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হোটেল বুকিং বা পণ্য ক্রয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এককালীন ৩শ’ ডলারের অধিক প্রয়োজন হয়। সেটা অবশ্যই গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে করতে পারবেন। তবে যাতে কোনোভাবে মিসইউজড বা অন্য উদ্দেশে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে। তিনি বলেন, ১০০ টাকা পাচার হওয়াও দেশের জন্য ক্ষতি। তাই যাতে অর্থ পাচার না হয় সে জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English