শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

গতির ভোগান্তিতে ফোর-জি ভোক্তারা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন
গতির ভোগান্তিতে ফোর-জি ভোক্তারা

করোনাকাল হয়ে উঠেছে নেট নির্ভর। মুঠোফোন ছাড়া এক মুহূর্ত চলার উপায় নেই। ঘরবন্দি মানুষের কেনাকাটা, দাফতরিক কাজকর্ম, সামাজিক যোগাযোগেও বেড়েছে মুঠোফোন নির্ভরতা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কলড্রপ ও ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তি। যদিও এ দূরাবস্থার জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে দুষছে মোবাইলফোন অপারেটররা। তারা বলছে উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক অনুপাতে প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে পারছেন না তারা। আর নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি বলছে মোবাইলফোন অপারেটররা প্রতিবছর মুনাফা করলেও প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। এদিকে মুঠোফোনখাত সংশ্লিষ্টরা বলছে, তরঙ্গের দাম না কমলে সহসাই ভোগান্তি কমবে না। বাধাগ্রস্ত হবে ফাইভ-জি সেবা চালু।

বৈশ্বিক মহামারীর বছরে তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা লাভ করেছে গ্রামীণফোনের, আর দেড়শ কোটি টাকার বেশি লাভ রবির, প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ব্যবসা করেছে বাংলালিংক। আবার উল্টো দিকে আয় বেড়েছে সরকারের। চলতি অর্থবছরে মুঠোফোনে প্রতি ১০০ টাকা খরচের উপরে তিন টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা নিচ্ছে সরকার, এর পাশাপাশি মুঠোফোন অপারেটরদের রাজস্ব আয়ের ৫৫ শতাংশ কর বাবদ যাচ্ছে সরকারের কোষাগারে। কিন্তু এত সব আয়োজন যেজন্য সেই ১৭ কোটি গ্রাহকের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত অপারেটরগুলো নজর দিচ্ছে কোথায়। হুটহাট কল ড্রপ, পাঁচ মিনিটের কলে দুই মিনিটই শুনতে না পাওয়া, পড়াশোনা কিংবা দাফতরিক কাজে ইন্টারনেট ধীরগতি। করোনাকালে মুঠোফোনের সেবা নিয়ে এরকম অসংখ্য অভিযোগ গ্রাহকদের। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ওকলা’ বলছে, গত ডিসেম্বরে মুঠোফোনে ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৫তম। প্রতিষ্ঠানটি ১৩৯টি দেশের হিসাব থেকে এ তথ্য দেয়।

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ সাদি বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো আমাদের থেকে টাকা থেকে নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু মানসম্মত সেবা দিচ্ছে না। নেটের সমস্যার কারনে ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্ট কিছুই ঠিক করে করতে পারি না। আরেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফায়েদ মাহমুদ বলেন, ফোরজি ইন্টারনেট বলছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের দিচ্ছে টু-জি কিংবা থ্রি-জি। ঢাকার বাইরে গেলে ফোর-জি তো দূরের কথা থ্রি-জি পর্যন্ত পাওয়া যায় না, ঢাকার কিছু এলাকায় পাওয়া যায় তাও খুবই স্লো।

এদিকে এই দূরাবস্থার জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে দুষে মোবাইলফোন অপারেটররা বলছে, উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক অনুপাতে প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে পারছেন না তারা। ২০০৮ সালে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে সবশেষ নিলামে তা দাঁড়ায় আড়াই থেকে তিন কোটি ডলারে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় আড়াইশো মেগাহার্জ তরঙ্গ অবিকৃত রয়েছে। করোনা স্বল্পমূল্যে এসব তরঙ্গ চেয়েও পায়নি মুঠোফোন অপারেটররা।

বিটিআরসি ও মুঠোফোন অপারেটরস সূত্র বলছে, বর্তমানে ৩৭ মেগাহার্জ তরঙ্গ দিয়ে প্রায় ৮ কোটি গ্রাহক সেবা দিচ্ছে দেশের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন। প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের বিপরীতে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ লাখ। একই পরিমাণ তরঙ্গ দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে আরেক অপারেটর রবি। ৩০ মেগাহার্জ তরঙ্গ দিয়ে সাড়ে তিন কোটি গ্রাহক সেবা দিচ্ছে বাংলালিংক আর ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে ৪৯ লাখ গ্রাহক সেবা দিচ্ছে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক।

রবির রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হেড শাহেদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, তরঙ্গের মূল্য আমাদের গ্রাহকরাই দিচ্ছে, তবে গ্রাহকদেরকে সেবা দিয়ে যে মূল্যটা আমরা পাই সেখান থেকে তরঙ্গ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমরা না পারছি টাওয়ার বাড়াতে, না পারছি তরঙ্গ এজন্য আমাদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট এন্ড রেগুলাটরি আফেয়ারর্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘তরঙ্গের দাম যদিও কমাচ্ছে না কিন্তু মূল্য পরিশেধ ব্যবস্থাকে সুবিধাজনক করা হয়েছে।’

এদিকে নেটওয়ার্ক খাতে শৃঙ্খলা আনতে ২০১৮ সালের ৪ প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম বছরে বিভাগীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয় এ চার প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু দুই বছর ধরে নেটওয়ার্ক ভাড়া ব্যয় নিয়ে মুঠোফোন অপারেটরদের সাথে দেন দরবার করেও মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় টাওয়ার অপারেটররা। ফলে লাইসেন্সের শর্ত মানেনি টাওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। জটিলতা নিরসনে বাধ্য হয়ে মুঠোফোন ও টাওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেবা সংক্রান্ত চুক্তি ঠিক করে দেয় বিটিআরসি। এরপরই শুরু হয়েছে নতুন টাওয়ার নির্মাণ কাজ।

সামিট টাওয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলাম বলেন, কার দোষ সেটা নির্দিষ্ট করে বলাটা কঠিন, এটা ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যু। ৩০ বছর ধরে একভাবে চলেছে এখন আগামী ২০ বৎসর বা আগামী ১৫ বছর কিভাবে চলবে এটার একটা সেট করতে এক বা দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে মুঠোফোন সেবার মান খারাপের বিষয়টি স্বীকার করেছে খোদ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি। তাদের অভিযোগ প্রতিবছর মুনাফা করলেও প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না অপারেটররা। এমন দূর অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের ৩০০ উপজেলায় ড্রাইভ টেস্ট করছে বিটিআরসি। যেখানে কল ড্রপ, কল সাকসেস রেট, কল সেট আপ টাইম ৩ম ৪ম ডাটা গতি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জুন মাস নাগাদ এই জরিপ শেষ হওয়ার আশা করছেন বিটিআরসি।

বিটিআরসি প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি মানসম্মত সেবা দিতে পারছি না আপনার কারণে, আপনি আরেকজনকে দোষ দিবেন এটাতে তো জনগণ সফল হচ্ছে না। এটাতো কাঙ্খিত না। আমরা বিষয়টি দেখছি। যদি দেখি তাদের সার্ভিস ইমপ্রুভ করে নাই, সেই আগের অবস্থানেই আছে তখন বিটিআরসি তাদের আর্থিক জরিমানা করতে পরে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English