গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রোববার রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ চাপা পড়ে ও অটোরিকশা উল্টে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গাছ চাপা ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে আব্দুল গোফ্ফার (৫৫) ও জাহানারা বেগম (৫০), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দোয়ারা গ্রামে ময়না বেগম (৬০), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারীতে শিউলী বেগম (২৫) মারা গেছে। এ ছাড়া ঝড়ের সময় ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটো উল্টে নিহত হয়েছেন হাফেজ উদ্দিন (৪৪)। গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, একই কারণে মৃত্যু হয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী গ্রামের জোছনা বেগম, শিশু মনির, রামচন্দ্রপুরের আরজিনা, মালিবাড়ি গ্রামের সাহেরা এবং অপর ১ জনের নাম পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, রোববার দুপুর ২টার পর থেকে গাইবান্ধার উত্তর পশ্চিমাকাশে কালো মেঘের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। থেমে থেমে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিহীন এই ঝড়ো হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও ৫ উপজেলার অন্তত ৫ হাজার হেক্টর জমির ভট্টা, ধান ও মরিচের গাছ ভেঙে পড়েছে। জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন ঝড়ে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ৪ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।