চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল বারেকের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমমেইলিং ও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোদ ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত বারেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এর আগেও কাউন্সিলর ছিলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ বরাবরও অভিযোগ করেছেন ওই নেত্রী।
বিষয়টি জানাজানির পর এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকমীরাও।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই নেত্রী বলেন, আবদুল বারেক একজন নারীলোভী খারাপ চরিত্রের লোক। দীঘদিন আগে থেকে তিনি আমার পেছনে লেগেছেন। আমাকে তার সঙ্গে হোটেলে যাওয়ার মতো আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। আমি তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফেইক ফেসবুক আইডি বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করেন। স্বামীকে ভুল বুঝিয়ে আমার সংসার ভেঙে দিতে চেষ্টা করেছেন। সিটি করপোরেনের কাউন্সিলর নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে একদিন তিনি পথে আমাকে পেয়ে জোর করে জড়িয়ে ধরে নিজের লোক দিয়ে ছবি তুলে সেই ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন। শুধু আমি নই, আরো অনেক নারীই আবদুল বারেকের লালসার শিকার হয়েছেন। কিন্তু মান সম্মানের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না। আমি বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ করছি, প্রতিকার চাইছি। এজন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও মহানগর মহিলা লীগকে লিখিত আকারে অভিযোগ দিয়েছি।
তবে অভিযুক্ত আবদুল বারেকের কাছে জানতে চাইলে এক কথায় এসব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগটি করা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কাউন্সিলর নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল আলমের পক্ষ হয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অভিযোগটি করা হয়েছে। আমি যদি তাকে হেনস্তা করি তাহলে এতদিন কেনো তিনি অভিযোগ করেননি? নির্বাচনের আগে এই সময়কে কেনো তিনি এসব কথা বলছেন? এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে তিনি ছাড়াও আরো কয়েকজনের হাত রয়েছে। তাছাড়া যে ফেসবুক আইডির কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমি নিজে ব্যবহার করি না। তারপরও অভিযোগ যেহেতু করেছেন তাই আমিও চাই, বিষয়টি তদন্ত হোক। আমি দোষী হলে শাস্তি মাথা পেতে নেব। তবে তারা দোষী হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করার বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী ওই নেত্রী বলেন, ‘আবদুল বারেক দল সমর্থিত প্রার্থী- এটা ঠিক। তাই আমাদেরও দায়িত্ব হচ্ছে তার জয়ের জন্য কাজ করা। কিন্তু যে লোকটি নারীদের যৌন হয়রানি করেন, ব্ল্যাকমেইলিং করেন তার মতো লোকের জন্যতো কাজ করতে পারি না। তবে তার জন্য কাজ না করলেও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীর জয়ের জন্য এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।’
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, পতেঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল বারেকের বিরুদ্ধে একই ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর আনা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। আবার কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরেও অনভিপ্রেত এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।