ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রচণ্ড চাপে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট হাতে বড় স্কোরের পর বল হাতে বাংলাদেশকে পুরোমাত্রায় চেপে ধরেছে ক্যারিবীয়রা।
প্রথম ইনিংসে তিন ফিফটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ৪০৯ রান। জবাবে শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। দিন শেষে করেছে টাইগাররা ৪ উইকেটে ১০৫ রান তুলে। ৩০৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে দলীয় এক রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রানের খাতা খুলার আগেই গ্যাব্রিয়েলের বলে মায়ার্সের হাতে ক্যাচ তুলে দেন দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফেরা সৌম্য সরকার। দলীয় ১১ রানে নেই দ্বিতীয় উইকেট। বাজে শট খেলতে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত শিকার সেই গ্যাব্রিয়েলের। তিনি ক্যাচ দেন বনারের হাতে। ২ বলে চার সংগ্রহ তার।
মুহূর্তের মধ্যে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখানোর চেষ্টা করেন তামিম ও মুমিনুল জুটি। এই জুটিতে রান আসে ৫৮। দলীয় ৬৯ রানের মাথায় বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩৯ বলে ২১ রান করে কর্নওয়ালের বলে উইকেটের পেছনে সিলভার হাতে ক্যাচ দেন মুমিনুল।
দায়িত্ব ছিল তামিমের নিজের ইনিংস বড় করা। কিন্তু ওয়ানডে স্টাইলে খেলা তামিম থেমে যান মুমিনুলের বিদায়ের পরই। দলীয় ৭১ রানে জোশেফের বলে মোজলির হাতে ক্যাচ দেন তামিম। যাওয়ার আগে করে যান ৫২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস। ছয়টি চারের পাশাপাশি একটি ছক্কাও হাকিয়েছেন তামিম।
চার উইকেট হারিয়ে ধুকছে তখন বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে দিনের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে খানিকটা হলেও স্বস্তি দিয়েছেন মুশফিকুর রহীম ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনই ৬১ বল খেলে আছেন অপরাজিত। মুশফিকের রান ২৭ হলেও মিঠুনের রান মাত্র ৬। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে খেলেছে ৩৬ ওভার।
এর আগে ৪০৯ রানে অল আউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২২৩ রান। ৭৪ রানে বনার ও ২২ রানে জশুয়া ছিলেন অপরাজিত।
শুক্রবার দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের সফলতা বনারের উইকেট। তাও তিনি প্রায় চলে গিয়েছিলেন সেঞ্চুরির কাছাকাছি। ৮৮ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি আনেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্লিপে মিঠুনের হাতে ক্যাচ দেন ৯০ রান করা বনার। ২০৯ বলের ইনিংসে বনার হাঁকান সাতটি চার।
বনার আউট হওয়ার পর ভাবা হচ্ছিল দ্রুত গুটিয়ে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে আশায় গুড়ে বালি। সপ্তম উইকেট জুটিতে বেশ ভালো রান তোলেন জশুয়া ও জোশেফ। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীফ ফিফটি করে সেঞ্চুরির পথে আগান জশুয়া। ভাগ্য খারাপ তার বনারের মতোই। নার্ভাস নাইন্টিজে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন তাইজুলের বলে। সরাসরি বোল্ড। ১৮৭ বলে তিনি করেন ৯২ রান। উইন্ডিজ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তার। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চারের মার। ভাঙে সপ্তম উইকেটে রেকর্ড ১১৮ রানের জুটি। ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৭ উইকেটে ৩৮৪ রান।
এরপর অবশ্য আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওযানডে স্টাইলে খেলা জোশেফও আভাস দিয়েছিলেন সেঞ্চুরির। কিন্তু পারেননি। আবু জায়েদ রাহীর বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১০৮ বলে তিনি করেন ৮৪ রান। চার ৮টি। ছক্কা হাকিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫টি।
স্কোর ৪০০ হওয়ার আগেই জোমেল ওয়ারিক্যানকে সাজঘরে ফেরান রাহী। তিনিও ক্যাচ দেন লিটনের হাতে। উইন্ডিজের শেষ উইকেট গ্যাব্রিয়েলকে তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। ১১ বলে ৮ রান করেন তিনি। ভাগ্য খারাপ কর্নওয়ালের। সঙ্গী অভাবে এগুতে পারেননি তিনি। ১৬ বল খেলে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন উইন্ডিজের এই দীর্ঘদেহীর স্পিনার।
বল হাতে পেসার রাহী ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম নেন সমান চারটি করে উইকেট। মিরাজ ও সৌম্য নেন একটি করে উইকেট। ২৪ ওভার বল করেও উইকেটশূন্য আরেক স্পিনার নাঈম।