রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

চালের দাম কমছে ধীরে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

আমদানির খবরে পাইকারি বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহ থেকেই একটু একটু করে কমছিল। চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারেও কমতে শুরু করেছে। তবে যে গতিতে চালের দাম বেড়েছিল, কমার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। দাম কমছে খুবই ধীরগতিতে। গত এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে চার থেকে পাঁচ ধরনের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা কমেছে। অথচ এর আগে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে দেখা গেছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়—দাদা, সিরাজ, রহমান, আয়নালসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি)। সে হিসাবে এসব চালের কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহখানেক আগে এসব চালের দাম প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি ছিল। তবে অনেক ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম খুচরা বাজারে আগের মতোই রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রশিদ। এই ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে আগের দাম তিন হাজার দুই টাকা বস্তা বা ৬২ টাকা কেজি। এ ছাড়া শিরাশাইল সপ্তাহখানেক আগে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দুই হাজার ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

কেজিতে এক টাকা কমেছে নাজিরশাইল চালের দাম। খুচরা বাজারে ভালো মানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি। ব্রি আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা কেজি। আগে এই মানের চাল বিক্রি হয়েছে ৪৯ থেকে ৫০ টাকা কেজি। খুশবু, গ্রামীণসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের দেশি কাটারি নামের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭ থেকে ৫৮ টাকা কেজি। এই চালও কেজিতে এক টাকা কমেছে সপ্তাহের ব্যবধানে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লতা, পাইজাম, আটাশ ও উনত্রিশের মতো মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি। গুটি, স্বর্ণা ইত্যাদি মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি। এসব চালের দামও সপ্তাহখানেক আগে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেশি ছিল।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম আরো কমবে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা যা-ই বলুন না কেন, কম দামের চাল এখনো বাজারে সেভাবে আসেনি। মুগদা বাজারের মরিয়ম স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর বলেন, ‘শুনছি, পাইকারিতে চালের দাম ব্যাপক হারে কমেছে। কিন্তু আমরা এখনো কম দামের চাল পাইনি। এক-দুই টাকা যেটুকু কমেছে, তা খুচরা বাজারেও কমেছে।

এই খুচরা বিক্রেতা আরো বলেন, পাইকারি বাজারেই চালের বেচাকেনা আগের তুলনায় কিছুটা কম। বিভিন্ন ধরনের চালের সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের মতো নয়। হয়তো বাজার আরো নেমে যেতে পারে চিন্তা করে ব্যবসায়ীরা পুরোদমে চাল দোকানে তুলছেন না।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রনি বলেন, ‘আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজার আরো নেমে যাবে বলেই আশা করছি।’

আমন মৌসুমেও চালের দাম বাড়তে থাকায় সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে চার লাখ ও বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে আনা প্রায় ১০ হাজার টন চাল চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সরকারি খাদ্যগুদামে পৌঁছেছে। বেসরকারি আমদানিকারকরাও স্থলপথে ভারত থেকে চাল আনতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার টন চাল চলেও এসেছে।

গত বছর এই সময়ে সরকারি গুদামে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন চাল ছিল, যা এ বছর অর্ধেকে নামে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চালের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেন। অভিযোগের আঙুল তোলা হয় মিল মালিকদের দিকে। বলা হয়, মিল থেকে চাহিদামাফিক চাল সরবরাহ করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, মিলাররা মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা মণ দরে ধান কিনেছেন। মৌসুমের শুরু থেকেই ধানের সরবরাহ কম ছিল। চালের দাম বাড়ার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ী ও বড় কম্পানিগুলোর মজুদদারি দায়ী। তিনি বলেন, ‘দেশে ১৭টি বড় কম্পানি, যারা অন্যান্য খাদ্যপণ্যের ব্যবসা করত, তারা এখন চালের ব্যবসাও করে। তাদের কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের প্রণোদনাও তারা পায়। ফলে তারা প্রচুর ধান কিনে রাখতে পারে, যা আমাদের মতো ছোট মিলাররা পারে না।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English