চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আবদুল হান্নান (৪৫) নামের এক পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে অসুস্থ পুলিশ সদস্যকে আলমডাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
আবদুল হান্নান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ইউসুপপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এই প্রথম কোনো পুলিশ সদস্য মারা গেলেন।
জেলার সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান জানান, পুলিশ সদস্য আবদুল হান্নান শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন কি না, তা জানতে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, কনস্টেবল আবদুল হান্নান আলমডাঙ্গা শহরের ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী শিউলি খাতুন ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাস করতেন। আজ সকালে মুন্সীগঞ্জে কর্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থবোধ করলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আলমডাঙ্গা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিলে মুমূর্ষু অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল শনিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭ জন পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ছিলেন জেলার পুলিশ সুপারও।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আবদুল হান্নান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক দিন ধরে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
জেলায় এর আগে পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমানসহ ৪৭ জন পুলিশ সদস্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন; যার মধ্যে ৩৯ জনই সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন।