বেশ কিছুদিন ধরেই হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীকাণ্ডের পর থেকে বিপাকেই পড়েছেন হেফাজতের এই নেতা। বিগত কয়েক দিনে তার প্রতিটি কথাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাই যাতে সবাই বুঝতে না পারে সেজন্য এখন থেকে আরবিতেই পোস্ট দেবেন এমনটাই কি সিদ্ধান্ত নিলেন মামুনুল? প্রশ্ন অনেকেরই।
সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নানা কর্মসূচিতে নেমে এখন নিজের সম্মান বাঁচানোই সবচেয়ে বড় দায় হয়ে পড়েছে মামুনুল হকের। নারীকাণ্ডের পর গণমাধ্যম ও পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক ভেতরের খবর। অপর দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও হচ্ছেন প্রশ্নবিদ্ধ।
সবশেষ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি লাইভে এসে হেফাজত নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন মামুনুল হক। লাইভ ভিডিওতে দীর্ঘসময় কথা বলেন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে। ওই সময়ে ‘স্ত্রীর সঙ্গে সীমিত পরিসরে মিথ্যে বলার সুযোগ আছে’ এ কথা বলে নিজের পক্ষে সাফাই গান তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেই সমালোচনার শিকার হন মামুনুল। তবে ভিডিওটি আর নিজের পেইজে রাখেননি তিনি। পরদিন সকাল হতে না হতেই ডিলিট করে দেন। এর পর আরবি ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন হেফাজতের এই নেতা। যার বাংলা অনুবাদে ফেসবুক দেখিয়েছে “ বলুন, ‘আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্দেশ করেছেন তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই হবে না। হে আল্লাহ, আমাদের সমস্যাকে রক্ষা করুন এবং আমাদের বিস্ময়করকে নিরাপদ করুন ‘।
ভক্ত ও সমালোচক সব মিলিয়ে মামুনুলের আরবি পোস্টের নিচে কমেন্ট করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই। ওই পোস্টেই একজন কমেন্ট করেছেন ‘ শায়েখ, এখন থেকে আরবীতেই লেইখেন। ছাত্রলীগ পড়তে পারবে না’। অপর আরেকজন লিখেছেন ‘ যে ভাষাতেই লিখেন না কেন, সবই আমরা বুঝে ফেলব’। অনেকেই কমেন্ট করেছেন ‘পাকিস্তানি ভাষা ঊর্দূতে লিখতেন’। একটা সময় মামুনুলের পেইজে ভক্তদের ভিড়ই বেশি লক্ষ করা যেত। গত কয়েক দিনের আলোচনা ও সমালোচনায় এখন তার প্রতিটি পোস্টে সমালোকদের ভিড়। একজন লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ এত মূর্খ নাই যে, তাদের নিকট আরবি বর্ণ লিখে হরকত না দিলে তারা পড়তে পারবে না! তাদের যেকোনো বাক্য পড়ার ক্ষমতা অনেকের রয়েছে। ইনশাল্লাহ।’