রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

জান্নাত লাভের সহজ উপায়

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬০ জন নিউজটি পড়েছেন

জান্নাত মুমিনের চূড়ান্ত সফলতা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম।’ ( সূরা আলে ইমরান : ১৮৫)
ইসলাম সর্বদা মানুষকে জান্নাতের পথ দেখায়।
এতে এমন কিছু আমল রয়েছে যা মানুষকে খুব সহজেই জান্নাতে পৌঁছে দেয়। যেমনÑ
১. ইসলামী জ্ঞানার্জন : প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞানের খুঁজে কোনো পথে চলবে আল্লাহ তায়ালা তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন।’ (তিরমিজি : ২৬৪৬)
২. যথাসময়ে নামাজ আদায় : সময়মতো ও নিয়মিত নামাজ আদায় করলে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি খুশি হয়ে তাকে জান্নাত দান করবেন। প্রিয় নবী সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে এবং অবহেলা করে এর কোনোটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা ঠিকমতো পালন করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ : ১৪২০)
৩. মা-বাবার খেদমত করা : যারা মা-বাবার খেদমত করবে তারা জান্নাত লাভ করবেন। আর যারা মা-বাবার অবাধ্য হবে এবং অবহেলা করবে তারা যাবে জাহান্নামে।
প্রিয় নবী সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মা-বাবা উভয়কে অথবা কোনো একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেলো, তবুও সে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, সে ধ্বংস হোক।’ (সহিহ মুসলিম : ৬৪০৪)
৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ : রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি : ৯৮৪৮)
৫. তাকওয়া অবলম্বন : তাকওয়া হচ্ছে, জান্নাত লাভের উৎকৃষ্ট উপায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে উপস্থিত হওয়াকে ভয় করে এবং নিজের অন্তরকে কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখে, জান্নাতই হবে তার জন্য আসল ঠিকানা।’ (সূরা নাজিয়াত : ৪০-৪১)
৬. মুখ ও যৌনাঙ্গ হিফাজত : মুখ ও গোপনাঙ্গ হিফাজতের মধ্যে রয়েছে, জান্নাতের নিশ্চয়তা। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুখ ও যৌনাঙ্গের হিফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’ (বুখারি : ৬৪৭৪)
৭. এতিম প্রতিপালন : নবী করিম সা: বলেন, ‘আমি ও এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে একসাথে এমনভাবে থাকব’Ñ এই বলে তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুলকে পৃথক ও একসাথে করে দেখিয়েছেন। (সহিহ বুখারি : ৫৩০৪)
৮. অজুুর পর কালিমা শাহাদাত পাঠ : নবী করিম সা: ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করার পর কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে আবু দাউদ : ১৬৯)
৯. তাহিয়্যাতুল অজু পড়া : অর্থাৎ অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়া। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে এবং একাগ্রচিত্তে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।’ (আবু দাউদ : ১৬৯)
১০. আসমাউল হুসনা মুখস্থ করা : রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি : ২৭৩৬)
তবে ভালো আমলের পাশাপাশি অবশ্যই নিজেকে গুনাহমুক্ত রাখতে হবে। হালাল খাবার খেতে হবে। এভাবে সুদ-ঘুষ থেকে মুক্ত থাকাসহ শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English