বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

জীবন চলে না ফুটবলারদের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০ জন বাদে ফুটবলারদের বড় অংশের দিন কাটছে সংকটে। অনেকের জীবনের চাকা প্রায় স্তব্ধ।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে পরবর্তী ফুটবল মৌসুম দ্রুত শুরু করতে বাফুফেকে তাগিদ দিচ্ছেন দেশের শীর্ষ ফুটবলাররা। দুই দফায় তাঁরা বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও মামুনুল-আশরাফুলদের জীবন–জীবিকায় হয়তো টান পড়বে না। কারণ, তাঁরা সচ্ছল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের নিচের স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ এবং তারও নিচের স্তরের খেলোয়াড়দের কী অবস্থা?

অবস্থা এককথায় শোচনীয়। প্রথম বিভাগ বা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলোয়াড়দের অবলম্বন বলতে ফুটবলই। গত বছর তৃতীয় বিভাগে গাজীপুর সিটির হয়ে খেলেন ফয়সাল ইসলাম। গতকাল তিনি বলেন, ‘ছোট পর্যায়ের ফুটবলারদের অবস্থা করুণ। করোনার আগে টুকটাক খেলতাম, এখন এক বেলা খেলে আরেক বেলা খাওয়া যায় না। জীবন চালানোই কঠিন।’

এর ওপরের স্তরেও একই অবস্থা। গত বছর প্রথম বিভাগে নবাবপুর ক্রীড়া চক্রে খেলা লিটন রবি দাস অপেক্ষায় ছিলেন পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার। নতুন দল ফর্টিজে তাঁর খেলা পাকাও হয়ে যায়। কিন্তু করোনাভাইরাস সবই ভাসিয়ে দিয়েছে অনিশ্চয়তার সমুদ্রে। লিটন দুঃখভরা কণ্ঠে বলছিলেন, ‘বাবা দুই বছর আগে স্ট্রোক করেন। করোনার মধ্যে বড় ভাইয়েরও স্ট্রোক হয়। চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। লিগ না থাকলেও খেপ খেলে কিছু টাকা পেতাম। এখন কিছুই নেই। একটা চাকরিও পাচ্ছি না। ভীষণ কষ্টে আছি।’

১৩ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দলবদল শুরু হয়েছিল গত মার্চে। কিন্তু দলবদলের পর করোনার কারণে সবই বন্ধ। লিগও মাঠে গড়ানোর আগেই বাতিল। অনেকে কিছু অগ্রিম টাকা নিলেও বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই সেটা পাননি। ঢাকায় খেলা না থাকলে অনেকে জেলায় গিয়ে খেপ খেলে পরিবার চালান। এখন সে উপায়ও নেই।

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ক্লাব ইয়ংমেন্সের ফুটবলার আতিকুর রহমান বরগুনার বাড়ি থেকে ফোনে বলছিলেন, ‘করোনায় সব বন্ধ হওয়ার আগে কিছু খেলোয়াড় পেমেন্ট নিয়েছিল। আমি ঠিক করেছিলাম, দলবদলের শেষ দিকে পেমেন্ট নেব। সেই সুযোগ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে বাড়ি চলে এসেছি। কোনো আয় নেই।’ বিসিএল বা প্রথম বিভাগের অনেক ফুটবলার চট্টগ্রাম, খুলনাসহ অন্য লিগেও খেলেন। এবার কোনো লিগই না হওয়ায় খেলোয়াড়েরা দিশেহারা।

দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলাররাও ভালো নেই। রহমতগঞ্জের মিডফিল্ডার সাইদুল হাসানের কথায় হতাশা, ‘বাতিল হওয়া মৌসুমে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির ৬০ ভাগ টাকা পেয়েছি। এখন আব্বু, আম্মু চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ফুটবল ছেড়ে দিতে। তাঁরা বলছেন, ফুটবল খেলে কোনো লাভ নেই। আশা ছিল, এ বছর ভালো খেলে বড় দলে যাওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু লিগটা হলো না। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাদার্সের এক ফুটবলারের কথা, ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি ছিল ১০ লাখ টাকা। সই করার সময় ৮০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল। দিয়েছে মাত্র ২ লাখ। এরপর করোনায় গত রোজার ঈদের সময় দিয়েছে আরও ১০ হাজার টাকা।

প্রিমিয়ারে ছোট দলের খেলোয়াড়দের বেশির ভাগই হাতখরচ নিয়ে খেলেন। ছোট দলের বেশির ভাগ ফুটবলারের গড় চুক্তিও বেশি নয়, সর্বোচ্চ ৫-৭ লাখ টাকাই হবে। এবার সেই ফুটবলারদের অনেকে অর্ধেক টাকাও পাননি।

এই অবস্থাকে বেদনাদায়ক বলছেন রহমতগঞ্জের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী, ‘খ্যাপ থাকলেও নিচের দিকের ফুটবলাররা কিছু আয় করতে পারত। এখন সেটাও না থাকায় ওরা খুবই খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছে। অনেক খেলোয়াড় ফোন করে বলে, স্যার, কী করব। কান্নাকাটি করে। ওদের কোনো পথ দেখাতে পারি না।’

করোনা না গেলে পথের সন্ধান পাওয়াটা হয়তো কঠিনই হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English