লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন শরিফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে জুয়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও চার আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জেলা দায়রা জজ আদালত। এর আগে, এই ঘটনায় ১১৪ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২১ জন গ্রেফতার হলেও মূল আসামিসহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ৯৩ জন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার ভাই সাইফুল আলম। হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে ৪৩ জনের নামে। এছাড়াও আরও অনেককে অজ্ঞাতনামায় আসামী করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পাটগ্রাম পুলিশের এসআই শাহজাহান বাদী হয়ে পুলিশ এর উপর হামলার অভিযোগে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায়েও আরও অনেকে রয়েছে অজ্ঞাতনামায়। এছাড়াও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভাঙচুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে ২২ জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাতনামায় অনেককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননায় গুজবে সহিদুন্নবী জুয়েল হত্যাকাণ্ড মামলায় বুধবার আরও নতুন করে ৫ আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে পাটগ্রাম থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃত আসামিদের বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে পাটগ্রাম থানার পুলিশ। সেখানে তাদের সহকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগমের আদালতে তোলা হয়। আদালতের বিচারক আসামিদের তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে হত্যা মামলায় আটক বুড়িমারী শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রবিউলকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার সহিনুন্নবী জুয়েল কে বুড়িমারীতে হত্যা করে পুড়িয়ে দেয় তার মরদেহ। হত্যা,ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার দায়ের করা ৩টি মামলা। হত্যা মামলায় ৪৩ জন নামীয় আসামি করা হয়। আর বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর মামলায় ২২জন নামীয়সহ আরও অনেককেই অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ বাদী হয়ে আরও ৪৯ জন কে নামীয় আসামি করা হয়। তিনটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও অনেককে। এ নিয়ে ২১জন আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান মুল আসামি হোসেন ডেকোরেটর মালিক হোসেন আলী এখনো পলাতক রয়েছে।