রাজবাড়ীতে ঠাকুর ও ভগবানকে সাক্ষী রেখে কপালে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়ে হরিজন পল্লীর সুন্দরী এক তরুণীকে ৯ মাস ধরে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতা করার অভিযোগে সনাতন ধর্মের একই পরিবারের তিনজনের নামে মামলা হয়েছে।
গত ৮ নভেম্বর ওই তরুণী রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় শহরের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা তন্ময় দে (২৪) ও তার বাবা তপন দে এবং মা শ্যামা দে’কে আসামি করা হয়েছে।
ওই তরুণী জানায়, তিনি সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশুনার পাশাপাশি সে রাজবাড়ীর একটি অফিসে ক্লিনারের কাজ করত। গত দুই বছর আগে তন্ময়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে সে নীচু জাতের মেয়ে জেনেও তন্ময় তার সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর থেকে তন্ময় তাকে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোসহ ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেত। তবে এর পুরো খরচের টাকাও তন্ময় তার কাছ থেকে নিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তন্ময় তাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তন্ময় তাকে তার বাড়িতে থাকা মন্দিরের কাছে নিয়ে ঠাকুর ও ভগবানকে সাক্ষী করে কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে বলে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তখন সে তন্ময়কে বলে এভাবে বিয়ে হয় নাকি। বিয়েতে সাক্ষী লাগে, রেজিস্ট্রি লাগে।
এ সময় তন্ময় তাকে আশ্বস্ত করে- ঠাকুর ও ভগবান তাদের সাক্ষী। তাদের বিয়ে হয়ে গেছে পরে রেজিস্ট্রি করে নেব। এরপর ওই দিনই তন্ময় তাকে ধর্ষণ করে। তন্ময়ের বাবা-মা নাচ-গানের শিক্ষক। তারা প্রায়ই বাড়িতে থাকতেন না। এ সুযোগে তন্ময় প্রতি সপ্তাহে দুই-তিন দিন তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করত।
তিনি জানান, এর কিছুদিন পর তন্ময়ের বাবা-মা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং তাকে নানাভাবে বুঝিয়ে বলেন- তুমি আমাদের বাড়িতে থাকো কিন্তু বিষয়টি কাউকে বলো না। কারণ তোমাদের জাত আলাদা, আমাদের জাত আলাদা। আমাদের মান-সম্মান থাকবে না। কিছুদিন চুপ থাকো। তারপর তোমাদের বিয়ের স্বীকৃতি দেব। এরপর থেকে সে ওই বাড়িতেই থাকত এবং তন্ময় তাকে প্রতিদিনই ধর্ষণ করত।
এর মধ্যে একবার ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তন্ময় তাকে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। তন্ময়ের বাড়িতে সে প্রায় ৯-১০ মাস ছিল। এর মধ্যে সে অনেকবার তাকে রেজিস্ট্রি মূলে বিয়ের কথা বলেছে কিন্তু তন্ময় ও তার বাবা-মা কোনো কর্ণপাত করেনি। অবশেষে গত অক্টোবর মাসে তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেয় তন্ময় ও তার বাবা-মা। ফলে উপায় না পেয়ে সে আদালতে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় বিচার না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে জানায় ওই তরুণী।
রাজবাড়ী শহরের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দোলনচাপা সঙ্গীতাঙ্গনের সভাপতি তন্ময়ের বাবা তপন দে বলেন, প্রায় ১০ মাস ধরে ওই মেয়ে আমাদের বাড়িতে ছিল। তবে ধর্ষণের ঘটনা মিথ্যা। ওই মেয়ে গান শিখত। সেখান থেকে আমি তাকে চিনতাম। সে মেসে থাকত। সে আমাদের বাবা-মা ডেকেছিল এবং আমার বাড়িতে থাকতে চেয়েছিল বলেই আমরা তাকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলাম। সে তন্ময়কে ভাইয়া বলে ডাকত। এখন সে কী কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিল বুঝতে পারছি না। মামলা হওয়ার পর থেকে তন্ময় পলাতক রয়েছে।