মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

থানকুনি পাতা কেন খাবেন?

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭৯ জন নিউজটি পড়েছেন

আগে কারও হাত কিংবা পা কেটে গেলে বা পেটের কোনও সমস্যা হলেই খোঁজ পড়ত থানকুনি পাতার। প্রাচীন আর্য়ুবেদ শাস্ত্রেও এই পাতার প্রচুর গুণাগুণ বর্ণিত রয়েছে। অনেক ওষুধও তৈরি হত এই পাতার রস থেকে। আজকাল এই পাতার ব্যবহার কমে গেছে। কিন্তু শরীরকে নানা দিক দিয়ে সুস্থ রাখতে এই পাতার জুড়ি নেই। শুধু এই উপমহাদেশেই নয়, খ্রিস্টপূর্ব ১৭ শতক থেকেই আফ্রিকা, জাভা, সুমাত্রাতেও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই পাতা। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এই পাতা বাটা খুবই উপকারী। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

ক্ষত নিরাময়ে : কোনও ভাবে আঘাত পেলে কিংবা কোথাও কেটে গেলে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করতে থানকুনি পাতা বেশ কার্যকরী। এই পাতা বেটে কাটা জায়গায় লাগালে ব্যথা কম হবে আর রক্ত পড়াও বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকী ক্ষত থেকে সংক্রমণের আশঙ্কাও কমে যাবে।

শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকে : অনেকের থ্রম্বোসিসের সমস্যা থাকে। এছাড়াও অনেকের দেহেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণে রক্তপ্রবাহে সমস্যা হয়। থানকুনি পাতার রস খেলে রক্ত শুদ্ধ থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও ঠিক থাকে। ফলে হাত ফুলে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

রক্ত জমাট বেঁধে যায় না : থানকুনি পাতার মধ্যে থাকা নানা রকম খনিজ উপাদান থাকায় এটি তাড়াতাড়ি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে অনেক জটিল রোগ থেকে খুব দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেওয়া একদম উচিত নয়। কারণ এর ফলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। তখন অন্য অঙ্গও কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।

শরীরের ভেতরের জ্বালা কমায় : কোনও কারণে শরীরের ভেতরে ক্ষত হলে নানা রকম সমস্যা যেমন-জ্বর, ক্লান্তি এসব সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া খিদে কমে যাওয়া, পেশির ব্যথাও হতে পারে। থানকুনি পাতার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান থাকায় এটি জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া ক্লান্তি ভাবও দূর হয়। সেই সঙ্গে অনেক রকম সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

পেটের সমস্যা কমায় : পেটের যে কোনও রোগে থানকুনি পাতা খুব ভালো। আমাশয় থেকে আলসার সবই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এ পাতা খেলে। যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

মানসিক অবসাদ কমায় : যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য থানকুনি পাতার রস বেশ উপকারী। থানকুনি স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মানসিক চাপ আর অস্থিরতা দুই কমে। এর ফলে উৎকণ্টার আশঙ্কাও কমে যায়।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে : নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পেন্টাসাক্লিক ট্রিটারপেনস নামের একটি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যে কারণে মস্তিস্কের সেল ভালোভাবে কাজ করতে পারে। নিয়মিত এ পাতা খেলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়। এমনকী অ্যালঝেইমারের মতো অসুখের ওষুধও তৈরি হয় এই পাতার রস থেকেই।

ঘুমের সমস্যা দূর করে : যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন সকালে উঠে থানকুনি পাতা ভেজানো পানি খান। এতে স্নায়ু শিথিল হবে, সেই সঙ্গে ঘুমও ভালো হবে।

ডিটক্সিফিকেশন : অনেকেই জানেন, গাজর কিংবা লেবুর রস শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। এসবের মতো থানকুনি পাতাও ভালো ডিটক্সিফিকেশন করে। প্রতিদিন থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খান। এতে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যাবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English