ইসলামে শুধু মানবসম্পদ উন্নয়ন নয়, মানব আত্মার উন্নয়নও একান্ত কাম্য। অহংকার, লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ যাবতীয় আত্মিক ব্যাধিমুক্ত মানব আত্মার উন্নয়ন চাই। সুফি সাধকগণ একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার উপাসনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ ও পবিত্র অন্তর তৈরির চেষ্টা করেছেন এবং আমাদেরও পথ দেখিয়েছেন।
ইসলামের আবশ্যকীয় পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে জাকাত। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অধিকারী হলে একজন প্রকৃত মুসলমান অবশ্যই জাকাত আদায় করে থাকেন। এতে সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্যের উন্নয়ন ঘটে থাকে। ইসলামে জাকাতের পাশাপাশি বেশি পরিমাণ সদকা অর্থাত্ দানকে উত্সাহিত করা হয়েছে এবং তা হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য।
জাকাত সঠিকভাবে আদায় করার জন্য এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
১. এমন দরিদ্র জনগণ যারা শারীরিকভাবে এবং বুদ্ধি-বিবেচনার দিক থেকে সক্ষম। জাকাতের মাধ্যমে তাদের রিকশা, ভ্যান, সেলাইমেশিন বা ব্যবসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা যেতে পারে।
২. এমন ধরনের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা শারীরিকভাবে সক্ষম হলেও বুদ্ধি-বিবেচনার দিক দিয়ে যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন নয় (Intellectually weak poor people)। জাকাতের মাধ্যমে তাদের অর্থ দেওয়া অথবা বসতবাড়ি তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে।
৩. দরিদ্র জনগোষ্ঠী এমন ধরনের যারা শারীরিকভাবে এবং বুদ্ধি-বিবেচনার দিক দিয়ে সক্ষম নয়। এ ধরনের দরিদ্র শ্রেণির জনগণকে সরাসরি জাকাতের অর্থ প্রদান অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে দেওয়া বা বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া যেতে পারে।
৪. দরিদ্র জনগোষ্ঠী এমন ধরনের যারা শারীরিকভাবে অক্ষম। এদের কেউ অন্ধ, কেউ পঙ্গু, কারো হাত-পা নেই। নিতান্ত অসহায় মানুষদের সরাসরি জাকাতের অর্থ প্রদান করা অথবা বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া যেতে পারে। জাকাতের অর্থের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও তাদের প্রদান করা যেতে পারে।
৫. এ শ্রেণির দরিদ্র জনগণ সাধারণত দরিদ্র তাদের স্বভাবের কারণে। যেমন- কেউ অলস, কেউ নেশাগ্রস্ত, কেউ ভবঘুরে, কেউ অনৈতিক/অসত্ কাজে জড়িত। এমনও দরিদ্র ব্যক্তি পাওয়া যায়, যাদের কাছে অর্থ আসামাত্রই অতি মাত্রায় খরচ করে ফেলেন। এ ধরনের দরিদ্র জনগণকে জাকাতের অর্থের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে দেওয়া যেতে পারে অথবা বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া যেতে পারে। ব্যবসা অথবা গঠনমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণত এ শ্রেণির দরিদ্র জনগণের পক্ষে করা সম্ভব নয়।
ধনীর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার রয়েছে। এতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায় এবং এতে দরিদ্র বিমোচনসহ দুঃখী এবং দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয়। নবি-রাসুলগণ মহান আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মানব আত্মার উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন। একজন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তি যদি অন্তরের ধনী হয়ে থাকেন তবে তার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ লাভ হয়।