দেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম রোববার এ সহায়তা চান। বর্তমানে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে নেতিবাচক ইক্যুইটি কমাতে এই তহবিল ব্যবহার হবে।
এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়বে। আর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে নীতিগত সমর্থন পাওয়া গেছে।
বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকা করে মোট ১১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১১ সালেও বাংলাদেশ ফান্ড নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছিল।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক ইক্যুইটি সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে সম্প্রতি এই হার কিছুটা কমলেও এখনো তা ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে। বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে এই টাকা আটকে আছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমেছে। সামগ্রিকভাবে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আর এ অবস্থার উত্তরণে এই বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হল। এই তহবিল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবে আইসিবি। যেখান থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ নিতে পারবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা নেতিবাচক ইক্যুইটি কমলেই বাজারের উন্নতি হবে।
এ ব্যাপারে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে। এই নেগেটিভ ইক্যুইটিকে সাপোর্ট এবং বিনিয়োগে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সফট ইন্টারেস্টে বিশেষ তহবিল চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর যে পরিমাণ নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে, বিশেষ তহবিলের আকার সেই পরিমাণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে এই ফান্ডের আকার হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মতো। তিনি বলেন, এই বিশেষ তহবিল আইসিবি ম্যানেজ করবে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো সেখান থেকে স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে নিতে পারবে।
এদিকে বাজার উন্নয়নে এর আগে বাংলাদেশ ফান্ড নামে একটি তহবিল গঠিত হয়েছিল। শেয়ারবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আইসিবির উদ্যোগে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ হাজার কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তহবিলের ধরন ওপেন অ্যান্ড (বেমেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড।
এই তহবিলের ৭৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে এবং ২৫ শতাংশ মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইসিবি ছাড়াও সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা এই তহবিলে অংশ নিয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এই তহবিলে অংশ নেয়।
এই তহবিলের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা আইসিবি বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশ ফান্ডের প্রতি ইউনিটের দাম ছিল এক হাজার টাকা। এর প্রতি লটে ১০০টি শেয়ার। এ হিসাবে লট শেয়ারের দাম এক লাখ টাকা। তবে বাজারের উন্নয়নে তা কাজে আসেনি।
এছাড়াও শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের প্রত্যেকটি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ওই তহবিলের তেমন অগ্রগতি নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির রোববারের বৈঠকে এ বিষয়টিও উঠে আসে। ব্যাংকগুলো যাতে দ্রুত এই বিশেষ তহবিল গঠন করে সেজন্য বিএসইসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়।