জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানে হারিয়ে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি জিতে নিল বাংলাদেশ। দেশের বাইরে রানের হিসাবে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। এ জয়ে প্রথমবার জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ জিতল টাইগাররা। এদিকে জিম্বাবুয়েকে বিশাল ব্যবধানে হারানোর দিনে অবসর নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অথচ তার কল্যাণেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের ভিত তৈরি হয় বাংলাদেশের। দলকে কঠিন বিপর্যয় থেকে রানের চূড়ায় নিয়ে যান রিয়াদ ১৫০ রান করে। তার কাছেই যেন অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়ে সাদমান আর শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে করে জোড়া সেঞ্চুরি। এরপর সাকিব, মিরাজ আর তাসকিন নৈপুণ্য জিম্বাবুয়ানদের ঠেলে দেয় পরাজয়ের দিকে। অবশেষে পঞ্চম দিনে যা দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের কাছে এটি কেবলই একটি জয় নয়। রয়েছে তার থেকেও বেশি কিছু।
সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি অধিনায়ক মুমিনুল হকের দল। এ ফরম্যাটে সবশেষ জয়টিও এসেছে ৫ ম্যাচ আগে। যা এনে দিয়েছে লাল-সবুজ শিবিরে স্বস্তি। দুই ইনিংস মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের মাথায় পাহাড়সম রানের বোঝা চাপিয়ে দেন সফরকারীরা। বিশাল রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ছাড়া স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। ৪৭৭ রানে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পঞ্চম ও শেষদিনের দ্বিতীয় সেশনে ২৫৬ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল হাতে সফল ছিলেন টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিব আল হাসান ৪ উউকেট নিলেও ৫ উইকেট নিয়ে সফল বোলারের তালিকায় উপরে এই অফ স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষ বধে আপসহীন মিরাজ। ২২০ রানে জয়ে এনে দিতে পরে বল হাতে নেন আরও ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে মিরাজ শিকার করেন ৯ জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানকে। এর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অভিষেক সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৫ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় লিটন দাসকে। এই ফরম্যাটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ৯৫ রানে আউট হন তিনি। শেষদিকে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৭৫ রান করেন রাসকিন। লিটন না পারলেও বাজিমাত করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এবারের জিম্বাবুয়ে সফরের আগে হঠাৎ করেই ডাক পড়ে তার টেস্ট দলে।
তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি শেষদিকে দলে জায়গা পান রিয়াদ। এরপর একাদশেও মিললো সুযোগ। সেটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। নিজের ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা দেড়শ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। এই ম্যাচ খেলেই অবশ্য সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দেড়শ রানের সৌজন্যে স্কোর বোর্ডে ৪৬৮ রান তোলে টাইগাররা।
জবাবে মিরাজ ও সাকিবের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস ২৭৬ রানে থেমে যায়। ১৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ২৮৪ তুলে ইনিংস ঘোষণা দেয়। জিম্বাবুয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ৪৭৭ রানের। সাদমান ১১৫ রানে ও শান্ত ১১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। রীতিমতো অসম্ভব এই টার্গেট টপকাতে নেমে ব্যক্তিগত ১১ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মিল্টন শুম্বা। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন টেলর। তুলে নেন এই ফরম্যাটে নিজের ১২তম ফিফটি। পরে অবশ্য টেলর ঝড় থামান মিরাজ, টেলর আউট হন ৯২ রান করে। ম্যাচের শেষদিনে আজ (রোববার) জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন-মিরাজরা ৪ উইকেট তুলে নিলেও পথ আগলে দাঁড়ান ডোনাল্ড ত্রিপানো। খেলেন ৫২ রানের ইনিংস। মিরাজের বোলিং দাপটে শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস ২৫৬ রানে। লাল-সবুজের পক্ষে এ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি করে উইকেট পান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪৬৮/১০, ১২৬ ওভার (মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, লিটন ৯৫, তাসকিন ৭৫; মুজারাবানি ৪/৯৪)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৮৪/১ ডিক্লেয়ার, ৬৭.৪ ওভার (শান্ত ১১৭*, সাদমান ১১৫*, সাইফ ৪৩; এনগারাভা ১/৩৬)
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ২৭৬/১০, ১১১.৫ ওভার (কাইতানো ৮৭, টেলর ৮১, শুম্বা ৪১; মিরাজ ৫/৮২)
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস : ২৫৬/১০, ৯৪.৩ ওভার (টেলর ৯২, ত্রিপানো ৫২, মুজারাবানি ৩০*; মিরাজ ৪/৬৬)
ফল : বাংলাদেশ ২২০ রানে জয়ী।