রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

নতুন ব্যাংকেও উপচে পড়ছে টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।

যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ আছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা ট্রেজারি বিল-বন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করেছে তারা।

নতুন ব্যাংকেও উপচে পড়ছে টাকা
নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো একসময় আমানত নিয়ে সংকটে থাকলেও এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। কয়েকটি ব্যাংক ভালো আমানত পাচ্ছে। করোনাভাইরাসের মধ্যেও ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য জমা হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিনিয়োগ হচ্ছে না। এজন্য ব্যাংকগুলো প্রয়োজনের বাইরেও সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বড় অঙ্কের টাকা খাটাচ্ছে।

একটি ব্যাংকে যে পরিমাণ সংবিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে রাখতে হয়, এর বেশি রাখলে সেটি অতিরিক্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া অতিরিক্ত তারল্যের মধ্যে রয়েছে—নগদ টাকা, ডলার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে থাকা হিসাবে থাকা অতিরিক্ত জমা ইত্যাদি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ আছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা ট্রেজারি বিল-বন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করেছে তারা।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোতে গত ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নেওয়ার চাপ বাড়ে। এতে মার্চ শেষে অতিরিক্ত তারল্য কমে ৮৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নামে। এমন অবস্থায় ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানো হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ফেরত পায় ব্যাংকগুলো।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় আমানতের সুদও ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এরপরও ব্যাংকগুলো ভালো আমানত পাচ্ছে। কারণ, মানুষের হাতে টাকা রাখার ভালো কোনো বিকল্প নেই। এর ওপর নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানোয় তারল্য বেড়েছে। প্রবাসী আয় বেশি আসছে। সরকারও এখন কম ঋণ নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রদানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ তারা যে হারে আমানত পাচ্ছে, সেভাবে বিনিয়োগ করছে না। এসব কারণে ব্যাংকগুলোয় দিন দিন তারল্য বেড়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোতে গত ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নেওয়ার চাপ বাড়ে। এতে মার্চ শেষে অতিরিক্ত তারল্য কমে ৮৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নামে। এমন অবস্থায় ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানো হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ফেরত পায় ব্যাংকগুলো। তাই এপ্রিল শেষে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা আরও বেড়ে জুলাইয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা এবং আগস্টে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকায় ওঠে। ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে।

মিডল্যান্ড ব্যাংকের এমডি মো. আহসান-উজ জামান, মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজম ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি মুখতার হোসেন।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের এমডি মো. আহসান-উজ জামান, মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজম ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি মুখতার হোসেন।
নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। চতুর্থ প্রজন্মের এই ব্যাংক যে পরিমাণ টাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ডে খাটাচ্ছে, তা প্রায় প্রথম প্রজন্মের অনেক ব্যাংকের সমান।

আমরা অতিরিক্ত টাকা বিল–বন্ডে রাখছি। এখন খুচরা ও করপোরেট ঋণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি মুখতার হোসেন
জানতে চাইলে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত টাকা বিল–বন্ডে রাখছি। এখন খুচরা ও করপোরেট ঋণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।’

হুন্ডি বন্ধ হওয়ায় ভালো প্রবাসী আয় আসছে। আমানতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে।
মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজম
আগস্ট শেষে মধুমতি ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। এ নিয়ে ব্যাংকটির এমডি মো. সফিউল আজম বলেন, ‘হুন্ডি বন্ধ হওয়ায় ভালো প্রবাসী আয় আসছে। আমানতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে। আমরা অতিরিক্ত টাকা ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করছি। ব্যাংক ভালো রাখার চেষ্টা করছি।’

গ্রাহকদের ভালো সাড়া মিলছে, আমানতও আসছে। আমরা ঘরে বসে হিসাব খোলা, টাকা জমা সুবিধা চালু করেছি।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের এমডি মো. আহসান-উজ জামান
মিডল্যান্ড ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৭৬৬ কোটি টাকায় উঠেছে। এই ব্যাংকের এমডি মো. আহসান-উজ জামান বলেন, ‘গ্রাহকদের ভালো সাড়া মিলছে, আমানতও আসছে। আমরা ঘরে বসে হিসাব খোলা, টাকা জমা সুবিধা চালু করেছি। আমরা সরকারের সব ধরনের ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অংশ নিচ্ছি। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করেছি।’

আগস্টের শেষে অন্য কয়েকটি ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ছিল এ রকম—মেঘনা ৩৯৩ কোটি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ৬৪৫ কোটি, এনআরবি ৩১৬ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ১৪২ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ৩১৪ কোটি, এনআরবি গ্লোবাল ৫৮ কোটি, সীমান্ত ৩৯ কোটি ও কমিউনিটি ব্যাংক ৯৮ কোটি টাকা। তবে কিছ নতুন ব্যাংক এখনো টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। গ্রাহক থেকে আমানত না পেয়ে তারা বেশি সুদে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English