সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

পদ্মা সেতু দেখতে ছুটছেন দর্শনার্থীরা, কিন্তু…

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানো হয়েছে। এখন আর স্বপ্ন নয়- এমন খবরে সেতুটি একনজর দেখার জন্য ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেতু তো দূরের কথা সেতু এলাকার মধ্যেও ঢুকতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরে দর্শনাথীরা সেতুর সংযোগ সড়ক রেল প্রকল্প ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপেসওয়েতে সময় কাটিয়ে আবার যার যার গন্তব্যস্থলে ফিরে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। আর এই বহুল প্রতীক্ষিত সাফল্য দেখার জন্য শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে শত শত লোক ছুটে আসছেন স্বপ্নের সেতু দেখতে শরীয়তপুরের জাজিরাপাড়ে।

তবে নিরাপত্তার কারণে সেনা সদস্যরা প্রকল্প এলাকাসহ স্বপ্নের সেতুর কাছে বা ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেননি। দর্শনার্থীরা সেতুর সংযোগ সড়ক রেল প্রকল্প ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপেসওয়েতে সময় কাটিয়ে আবার যার যার গন্তব্যস্থলে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে আবার ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখার জন্য এসেছেন। যারা ভাড়া করে ট্রলার নিয়ে এসেছেন তারাও সেতুর কাছাকাছি না যেতেই সেনাবাহিনীর বাধার কারণে ফিরে এসেছেন।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরাপ্রান্তের নাওডোবায় ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ৩ বছর পর বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়াপ্রান্তে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুই দৃশ্যমান হয়। এখন চলবে সেতুর প্রথমতলার রেলওয়ে ও স্ল্যাব এবং দ্বিতীয়তলায় রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

মোটরসাইকেলযোগে বরিশাল থেকে সজিব হোসেন বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন শরীয়তপুরের জাজিরায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে। সেনাবাহিনীর বাধার কারণে সেতুর কাছে যেতে পারেননি। তাই দুঃখ নিয়ে আবার চলে যাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে এসেছেন অনার্স পড়ুয়া কেএম রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে শুনছি স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা। গতকাল শুনলাম সব স্প্যান বসানো হয়েছে। তাই আর বসে থাকতে পারলাম না; আজই দেখতে চলে আসলাম।

চকবাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, গতকাল ৪১তম স্প্যান বসানোর পর আজ শুক্রবার পুরো পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে চলে আসি; কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকজন ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই পদ্মাপাড়ের হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাব।

আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম মাদবর বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো হয়। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখার জন্য শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পদ্মাপাড়ে সাধারণ লোকজন আসছেন। তাদের মধ্যে আনন্দ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও খুশির বন্যা বইছে।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমরা বাপ-দাদার জমিজমা ভিটামাটি পদ্মা সেতুতে দেয়ার পর যখন খবর পাই যে, পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো হয়েছে; তখন আমাদের মনে আর দুঃখ নেই। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আসতে দেখা যায় এবং তাদের আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামাল ভুইয়া বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকা বদলে যাবে। পদ্মাপাড়ের মানুষের অনেক আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এ সেতুতে। তাই সেতুটি পুরো দৃশ্যমান হওয়ায় পদ্মাপাড়ে মানুষ ও দর্শনার্থীদের ভিড়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English