মানব ও অর্থ পাচারের মামলায় কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল। আর দেশের মাটিতে দুর্নীতির মামলায় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, কন্যা ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধান।
অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের দুটি মামলার তদন্ত করছে দুদক ও সিআইডি। ইতিমধ্যে এ দুটি সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাপুল ও তার স্বজনদের ৬৭০টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে ঢাকার আদালত। এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে, তার এখনো হিসাব পায়নি দুদক ও সিআইডি। এসব দুর্নীতির মামলায় পাপুলও আসামি। কুয়েতের কারাগারে আটক থাকায় তাকে আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না দুদক ও সিআইডি।
ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গত ২৭ ডিসেম্বর এমপি পাপুলের ১৪৮টি, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলামের ৩৪৫টি, তাদের মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬টি এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে খোলা ৪৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন। সিআইডির অর্থ পাচারের মামলায় পাপুল, তার মেয়ে, শ্যালিকাসহ তার প্রতিষ্ঠানের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
জব্দকৃত এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না তারা। এছাড়া কোনো অর্থ জমাও দিতে পারবেন না। পাশাপাশি ৯২টি তপশিলভুক্ত সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ হওয়ায় কারো নামে তা স্থানান্তরেরও সুযোগ নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এদিকে পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করেননি। ফলে ঐ জামিন আবেদনের ওপর আর শুনানি হয়নি। একই দুর্নীতির মামলায় পাপুলের স্ত্রী ও কন্যার আগাম জামিন আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি জালিয়াতির ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেবে হাইকোর্ট।