মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড শেয়ার বাজারে আইপিও ছাড়ার অনুমতি পেয়েছে।
বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এটি দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫২৩ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এই আইপিওর ইস্যু মূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা করে। সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্যের স্মারক হিসাবে এত বড় আইপিও নিয়ে এসেছে শতভাগ বিদেশি মালিকানার কোম্পানি রবি আজিয়াটা।
দেশের বাজারে এ আইপিও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেছেন।
রবি আজিয়াটা লিমিটেড বলছে, ৫২৩ কোটি টাকা বাংলাদেশের বাজার থেকে তোলার জন্য তাদের যতটা না আগ্রহ ছিল; তার চেয়ে বেশি আগ্রহ গ্রাহক এবং দেশের মানুষের সঙ্গে একটি বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানির মালিকানা শেয়ার করার।
কোম্পানিটি গত বছর দেশের পুঁজিবাজারে আসার জন্য উদ্যোগ নেয়। এ জন্য নিয়োগ করে ইস্যু ম্যানেজার। পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নিশ্চিত করার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তারা বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেছে।
দেশের সবচেয়ে বেশি কর সংগ্রহকারী খাত টেলিকম। এ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ২ শতাংশ মিনিমাম টার্নওভার ট্যাক্স। গত বছর ২ শতাংশ মিনিমাম টার্নওভার ট্যাক্সের জন্য কার্যকর করের হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। টার্নওভার ট্যাক্স প্রত্যাহার করা না হলে এ বছর কার্যকর করের হার দাঁড়াবে ৮০ শতাংশের বেশি।
বর্তমানে শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হয়ে থাকে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত করের পার্থক্য ১০ শতাংশ হওয়া উচিত যা ১০ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। এ খাতের কর সীমা সহনীয় করার দাবি জানিয়েছে রবি।
রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘আমাদের আইপিও আবেদনে সদয় অনুমোদন প্রদানের জন্য বিএসইসিকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এটি নিঃসন্দেহে রবির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মুলধনী শেয়ার হিসেবে আমরা তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সরকারের কাছে আমাদের কিছু প্রত্যাশা ছিল, আমরা আশা করছি এ অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে সে বিষয়গুলোও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সদয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
সাহেদ আলম বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে রবিতে জনগণের অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। উদ্ভাবনী শক্তিতে উজ্জীবিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা কামনা করছি।