রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

ফেরাউনের পরিচয়

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০৬ জন নিউজটি পড়েছেন

মহান আল্লাহ বলেন, ‘ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো সীমা লঙ্ঘন করেছে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ২৪)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁকে বিশেষ দুটি মুজিজা দান করেছেন। তাঁর হাতে লাঠি সাপ হয়ে যেত এবং তিনি বগলের নিচ থেকে হাত বের করলে তা উজ্জ্বল-শুভ্র হয়ে বের হতো। নবুয়ত ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পর মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, হে মুসা, তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, কেননা সে সীমা লঙ্ঘনকারী। কেননা সে এক আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে মানুষের উপাসনা করার নির্দেশ দিয়েছে। সে আল্লাহর সীমারেখা অতিক্রম করেছে, নিজেকে খোদা দাবি করেছে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে।

আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর আদি ছয়টি জাতির মধ্যে ফেরাউনের জাতি অন্যতম। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনের ২৭টি সুরায় ৭৫টি স্থানে আলোচনা করেছেন। এটি কোরআনে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে ফেরাউনের চরিত্র ও তার জুলুমের পদ্ধতি পাঠকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, আর এ যুগের নব্য ফেরাউনরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক হয়। এর একটি কারণ এটাও যে মুসা (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা অন্য নবীদের তুলনায় বেশি ছিল। আবার তাঁর জাতি বনি ইসরাইলের মূর্খতা ও হঠকারিতার ঘটনাবলিও ছিল বিগত উম্মতগুলোর তুলনায় অধিক আলোচিত। কোরআনে ফেরাউনের আলোচনা বারবার করার মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেরাউনরা আসবে। ঈমানদারদের ওপর তাদের জুলুমের ধারা ও বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম হবে; যদিও পদ্ধতি পরিবর্তিত হবে।

‘ফেরাউন’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়। এটি তৎকালীন মিসরের সম্রাটদের উপাধি। কিবতি বংশীয় এই সম্রাটরা কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিসর শাসন করেছেন। এ সময় মিসর সভ্যতা-সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। লাশ মমি করা, পিরামিড তৈরি প্রভৃতি তাদের সময়কার বৈজ্ঞানিক উন্নতির প্রমাণ বহন করে। মুসা (আ.)-এর সময় পরপর দুজন ফেরাউন ছিল। লুইস গোল্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জালিম ফেরাউনের নাম ছিল দ্বিতীয় রামাসিস। আর ডুবে মরা ফেরাউন ছিল তার পুত্র মানেপতাহ বা মারনেপতাহ। লোহিত সাগরসংলগ্ন তিক্ত হ্রদে সে সসৈন্যে ডুবে মারা যায়। যার মমি ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে ‘জাবালে ফেরাউন’ নামে একটি ছোট পাহাড় আছে। এখানেই ফেরাউনের লাশ সর্বপ্রথম পাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি আছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English