শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানে কোরআনে কী রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন
কোরআনে ধৈর্যধারণের গুরুত্ব ও তার পুরস্কার

যেসব দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য জাকারিয়া (আ.) এর জীবনীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বেশ কয়েকটি জায়গায় জাকারিয়া (আ.) এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ, সুরা আল-ইমরানে আল্লাহতায়ালা বলেছেন- মারিয়মের কাছে বেহেশতী খাবার দেখে সেখানেই জাকারিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও আপনার পক্ষ থেকে মারিয়মের মতো পবিত্র সৎ বংশধর দান করুন। আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (আয়াত ৩৮)

এরপর জাকারিয়া যখন তার ইবাদতের কক্ষে নামাজ পড়ছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাকে সম্বোধন করে বলেছিল নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহিয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন। তোমার এই পুত্র হবে আল্লাহর নিদর্শনের তথা হজরত ইসা (আ.)-এর সমর্থনকারী। যে হবে জনগণের নেতা,ধার্মিক এবং পূণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী। (আয়াত ৩৯)

জাকারিয়া বললেন, হে আমার প্রতিপালক কীভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? আমার তো বার্ধক্য এসেছে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। আল্লাহ বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। (আয়াত ৪০)

জাকারিয়া (আ.) সন্তান চেয়ে আল্লাহতায়ালার কাছে দোয়া করেছিলেন। বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে তার দোয়াটি অত্যন্ত ফলপ্রসু হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অনেকেই এই দোয়ার আমল করে আশানুরূপ ফল পেয়েছেন বলে বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়।

তার করা দোয়াটি পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে- رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

উচ্চারণ: রাব্বী লা তাযারনী ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন।

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস। (সুরা আম্বিয়া: ৮৯)

এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসবযোগ্য করেছিলাম। (সুরা আম্বিয়া: ৯০)

জাকারিয়া (আ.) এর স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা। তবু আল্লাহতায়ালা তার দোয়া কবুল করে তাকে একজন পুত্রসন্তান দান করেন।

সুরা মারইয়ামে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে- যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল। সে বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যবশতঃ আমার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে। হে আমার রব, আপনার নিকট দোয়া করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি’।

‘আর আমার পরে স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে আমি আশংকাবোধ করছি। আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন’।যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব, আপনি তাকে পছন্দনীয় বানিয়ে দিন’।

‘হে জাকারিয়া, আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে কাউকে আমি এ নাম দেইনি’।সে বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি’।

সে (ফেরেশতা) বলল, ‘এভাবেই’। তোমার রব বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না’। (আয়াত ৩ – ৯)

সুরা আম্বিয়ার ৮৯ – ৯০ নং আয়াতেও একই ঘটনার বিবরণ এসেছে।

বন্ধ্যা দম্পতিদের জন্য কোরআনে বর্ণিত জাকারিয়া (আ.) এর ঘটনায় রয়েছে আশার বাণী। এখান থেকে শিক্ষনীয় হলো, আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হয়ে সর্বদা তার কাছে দোয়া করতে থাকা। তিনি চাইলে কাউকে বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান দান করতে পারেন।

এক্ষেত্রে নবী ইবরাহীম (আ.) এর বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাইল (আ.) এর জন্মের সুসংবাদ প্রাপ্তির ঘটনাটিও প্রণিধানযোগ্য।

আল্লাহ তায়ালা ইবরাহীম (আ.) এর স্ত্রী সারাহ (আ.) এর গর্ভে ইসহাক (আ.) ও তার অপর স্ত্রী হাজেরা (আ.) এর গর্ভে ইসমাইল (আ.) কে দান করেন; অথচ সেসময় ইবরাহীম (আ.) বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছিলেন। এবং ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর তায়ালার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন-

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে আমার বার্ধক্যে ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দোয়া শ্রবণকারী। (সুরা ইবরাহীম, আয়াত ৩৯)

মুসলমান যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তাই বন্ধ্যাত্বের কারণে সারাজীবনও যদি সন্তান লাভের সম্ভাবনা না থাকে, তথাপি মুসলমান হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তার জন্য সন্তানলাভের চেয়ে ধৈর্যধারণ করাই শ্রেয়।

মনে রাখতে হবে, দেখা-অদেখা সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন। তিনি যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আর তাঁর সকল সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে মানুষের কল্যান।

পবিত্র কোরআনে এসেছে- আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন; তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। (সুরা শুরা, আয়াত ৪৯-৫০)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English