সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ তাইওয়ানের উপহার নেয়ায় ‘দুঃখ’ পেয়েছে চীন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশকিছু চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করে তাইওয়ান। তাইওয়ান এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এন-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস শিল্ড, পিপিই, গগলস, দুই সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

তাই ওয়ানের কাছ থেকে ওই উপহার নেয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেলিফোন করে নিজেদের দুঃখ পাওয়ার কথা জানিয়েছে চীন। দেশটির দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মৌখিকভাবে এই বার্তা দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, চীনের দূতাবাস থেকে মৌখিকভাবে টেলিফোন করে তাদের দুঃখের বিষয়টি জানিয়েছে। পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছে তারা। বাংলাদেশ এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি।

তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে তারা গিয়েছিলেন। চীনের দূতাবাসকেও এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বাণিজ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তিন মন্ত্রী ও তিন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তিন মন্ত্রীর একজন ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার সামগ্রী নেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানতাম না। আমাদের বলা হয়েছিল ওয়ালটন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু উপহার সামগ্রী দেবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে এসে শুনলাম, তাইওয়ান থেকে ওনাদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। এর বেশি আমাদের জানাও ছিল না, আমরা জানতামও না যে এখানে তাইওয়ানের কোনো ব্যাপার আছে।’

চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ। এ ঘটনায় বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কে কেনো প্রভাব পড়তে পারে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার একটি বিশেষ শর্ত হলো, এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করতে হয়। সেটার ব্যতিক্রম করলে চীন সেটা খুশি মনে মেনে নেয় না। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ যখন এক চীন নীতির কথা বলে, সেটা তারা মেনে চলে।

তিনি বলেন, অনেক শক্তিধর দেশ হয়তো ব্যতিক্রম করে। কিন্তু সেখানেও চীন যে খুশি হয় না, সেটা তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে কোনো দেশকে চীন বাধা দেয় না, সেটা তাদের নীতি নয়। কিন্তু তারা চায়, তাইওয়ান যে একটি আলাদা রাষ্ট্র নয়, সেটা যেন খেয়াল রাখা হয়। সেরকম কোনো সম্পর্ক যেন গড়ে তোলা না হয়।

মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, অনুষ্ঠানে তিনজন মন্ত্রী গিয়েছেন, সেটা হয়তো চীনের ভালো লাগবে না। সেটা তারা প্রকাশ করবে স্বাভাবিক। তবে এটা আসলে কোনো স্বীকৃতিও না। হয়তো একটা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ আছে। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তাইওয়ানকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়ার বিষয় কোনো চিন্তাভাবনা নেই সরকারের। তবে কোথায় সীমারেখা, সেটা সম্পর্কে হয়তো সম্যক ধারণা নাও থাকতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English