শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় ৩৫৯০ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
  • ৬১ জন নিউজটি পড়েছেন

৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষা দিতে পারবে না মর্মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নোটিশ প্রকাশ করে। উক্ত অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। উক্ত রিট আবেদন শুনানির সময় হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে উক্ত পরীক্ষার্থীদেরকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় রিট আবেদনকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সংশ্লিষ্টদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ২০১৭ সালের ২১ জুলাই এমসিকিউ পরীক্ষা গ্রহণ করে। উক্ত পরীক্ষায় ১১৮৪৬ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়। তাদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে। লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ৮১৩০ জন পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে। উক্ত পরীক্ষায় ৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হন।

এর আগেই ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত বিধি ৬০ক সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। উক্ত গেজেটে বলা হয় যে, এমসিকিউ পরীক্ষায় পাশকৃত পরীক্ষার্থীরা পরপর দুইবার লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারবে। এর প্রেক্ষিতে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে নোটিশ দিয়ে ২০১৭ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাশ করা উক্ত ৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থী সরাসরি আগামী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে মর্মে বলা হয়।

ইতোমধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে আরেকটি এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরের দিন যার ফলাফলও প্রকাশিত হয়। পরবর্তিতে ২৬ জুলাই, ২০২০ তারিখে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পুনরায় নোটিশ দিয়ে বলা হয় যে, ২০১৭ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাশকৃত উল্লেখিত ৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

বার কাউন্সিলের এহেন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির উক্ত ৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থীর পক্ষে মহামান্য হাইকোর্টে ২৮.০৭.২০২০ তারিখে ১১৬১/২০২০ (এনেক্স ১০) নং ভিসি রিট পিটিশন দায়ের করেন। উক্ত রিট আবেদনটি দায়েরের পর বিচারপতি তারিক-উল-হাকিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চে ১০ আগস্ট, ২০২০ তারিখের কার্যতালিকায় ২৭ নং আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য আসে।

উক্ত আবেদন শুনানির সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত এক সপ্তাহের জন্য শুনানি মূলতবির প্রার্থনা করেন। তিনি নিবেদন করেন যে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন সংশোধনের উদ্দেশ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তারা চেষ্টা করছেন আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে।

তখন আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে বলেন, তারা অভ্যন্তরীণভাবে কী যোগাযোগ করছেন বা কত সময় লাগবে এ সম্পর্কে আমরা কিভাবে জানবো? তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত বলেন, যদি তারা এই সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করতে না পারেন, তখন আদালত যে আদেশ দিবেন তাই তারা মেনে নিবেন।

তারপর আদালত মৌখিকভাবে বলেন, আমরা এক সপ্তাহের জন্য মূলতবি রাখছি। যদি এর মধ্যে তারা কোন সমাধানে না পৌছাতে পারে তাহলে আগামী সপ্তাহে আমরা আদেশ প্রদান করবো।

অতপর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২০) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিধি পুনরায় সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। উক্ত গেজেটে পূর্বের ন্যায় এমসিকিউ পরীক্ষায় পাশ করার পর দুইবার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে সুনির্দিষ্টভাবে যোগ করা হয় যে, এ সংশোধনী ২১ জুলাই, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ গেজেট প্রকাশের পর উল্লেখিত ৩৫৯০ জন পরীক্ষার্থীর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা রইল না।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, উক্ত গেজেট প্রকাশের পর যেহেতু আদালতের পক্ষ থেকে আর কোনো আদেশের প্রয়োজন নেই, সেহেতু তিনি উক্ত রিট আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিবেন।

তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। সুতরাং তাদের সিদ্ধান্তসমূহ সঠিক ও সুবিবেচনাপূর্ণ হওয়া উচিত।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English