‘বালিশ কাণ্ড’ হিসেবে বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিদেশ যেতে পারবেন না, নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং তদন্তে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না-এই শর্তে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ খোলার এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার শর্তসাপেক্ষে ওই ঠিকাদারকে জামিন দেন। তার বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায় জামিন আবেদন করা হলেও একটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে। আরেক মামলায় আগামী ৫ জুলাই শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঠিকাদারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক।
পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে অস্বাভাবিক দামে বালিশসহ আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর ১২ ডিসেম্বর পাবনায় দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। একটি মামলায় সাত কোটি ৪৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং অপরটিতে সাত কোটি ৪৮ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় সেদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে উঠানোর খরচ দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতবছর ১৬ মে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭শ ৪৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬শ ৫০ টাকা, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯ ম ৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৭শ ৩০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম ৫ হাজার ৩শ ১৩ টাকা যা তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯শ ৪৫ টাকা। একটি টিভির দাম ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯শ ৭০ টাকা তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬শ ৩৮ টাকা, এই টিভি রাখার কেবিনেটের দাম ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৩শ ৭৮ টাকা।