শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন

বিএনপিতে আবার আন্দোলনের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
  • ৬১ জন নিউজটি পড়েছেন
জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হাস্যকর: বিএনপি

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা মূলত নতুন করে আবারো আন্দোলনে নামার উপর জোর দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদেরও দলটির তরফ থেকে সেই পথে ঐক্যবদ্ধ করার আহবান জানানো হচ্ছে বারবার। তাহলে বিএনপির আন্দোলনে নামার সেই ক্ষণটি কখন?

দলের অভ্যন্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর বেশ জোরেশোরেই রাজপথে নামার একটি পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও সেই পরিকল্পনার অংশের সাথে তাল মিলিয়ে সভা-সমাবেশে বলেছেন, ‘এ বছরই সরকারের বিদায়ঘণ্টা বাজবে।’ কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সেই পরিকল্পনা খুব একটা পাখা মেলেনি। গত বছরের মতো এ বছরও স্বাস্থ্যবিধিরি বাধ্যতামূলক বেড়াজালেই চলছে দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি। তবে ভার্চুয়াল কিংবা অডিটোরিয়াম-নির্ভর সাম্প্রতিক সভাগুলোতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নেতারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বশেষ যে তিনটি সভায় বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামার বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার করেই বলেছেন।

গত ৭ জুন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব রাজপথে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি নিরপেক্ষ সরকার ও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। এই কাজটি আমাদের করতে হবে, অন্য কেউ করে দিয়ে যাবে না। আমেরিকানরা করে দিয়ে যাবে না, চীন করে দিয়ে যাবে না, ভারত করে দিয়ে যাবে না। বাংলাদেশের মানুষকে এটা করতে হবে এবং এর নেতৃত্ব অবশ্যই বিএনপিকে দিতে হবে।’

৯ জুন জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে, সেই যুদ্ধে পুরোপুরিভাবে ইকুইপ্ট হতে হবে। যুদ্ধ করতেই হবে।’

১০ জুন মহানগর বিএনপির একটি সভায় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য দলকে ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতি নিতে বলেন বিএনপি মহাসচিব। এই অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য নিয়েও নেতাকর্মীরা আলোচনা করছেন। গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা জেলখানায়, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বন্দিবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে। এমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি ও এমন সব আলোচনার মধ্য দিয়ে কথাই বলে যাচ্ছি। আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। এখন কথা বলার চেয়ে বেশি জরুরি সরকারকে পতন কিভাবে করাবো। সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। অতীতের ইতিহাসে আমরা থেকেছি, আগামীর ইতিহাসেও আমরা থাকবো। আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করবো।’

দলটির নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর আন্দোলনের কথা কেবল মুখে নয়, মাঠে প্রমাণ করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সংগঠন, সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর ‘রহস্যজনক’ কারণে বিএনপি রাজপথে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, ছিল না কোনো কর্মসূচি। নির্বাচনের সেই ‘হতাশা’ পার করে দলটি নতুন করে সংগঠন গোছানোর কাজে রয়েছে। ধীরে ধীরে মাঠে নামার পরিকল্পনা দলটির থাকলেও মহামারী করোনা ইতোমধ্যে দেড় বছর কেড়ে নিয়েছে। সহসা এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমনটা বলাও যাচ্ছে না।

বিএনপির শুভাকাক্সক্ষী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে হলে এখন থেকে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে সরকারের মেয়াদের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেছে। শুধু বক্তৃতা-বিবৃতিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেই সরকার তা মেনে নেবে না।
তাদের মতে, বিএনপির একার পক্ষে এ দাবি আদায় করা কঠিন। এ জন্য সব দল ও মতকে একই প্লাটফর্মে আনতে হবে। আর এ উদ্যোগ বিএনপিকেই নিতে হবে। এ কারণে সামনে সবাইকে এক প্লাটফর্মে এনে পরিকল্পনামাফিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ডও তাদের শুভাকাক্সক্ষী পর্যবেক্ষকদের এ ধরনের মতামতের সাথে একমত। তারাও নতুন করে কার্যকর একটি আন্দোলনের অপেক্ষায় রয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরেই মূলত সেই আন্দোলন দানা বাঁধবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

দলটির নেতারা বলছেন, সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। চলতি বছরের বাকি সময়টাতে করোনায় মাঠে নামা সম্ভব কি-না তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আগামী বছর সরকার চতুর্থ বছরে পা দেবে। আর চতুর্থ বছরটাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে হলে সব ‘ম্যাকানিজম’ কাজে লাগিয়েই মাঠে নেমে যেতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English