বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ জাপান। দেশটি মনে করছে, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে এখানে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাপানের মিটশুবিসি করপোরেশনসহ অন্যান্য অটোমোবাইল শিল্প উদ্যোক্তারা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। তবে বিনিয়োগ বাড়াতে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও উঠে এসেছে। বিশেষত মটরগাড়ি নিবন্ধনের ফি অনেক বেশি হওয়ার ইস্যুটি ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া বিদ্যমান করহার, ভূমি প্রাপ্তির জটিলতাসহ আরো কিছু ইস্যু উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে ইচিবাচক সিদ্ধান্ত পেলে দেশটির বিনিয়োগকারীরা এখানে আরো বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকায় জাপানের দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শিল্পমন্ত্রী জানান, জাপানের মিটশুবিসি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ মোটরগাড়ি উত্পাদন করবে। এ লক্ষ্যে খুব শিগিগর অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এ নীতির আলোকে অটোমোবাইল শিল্প খাতে জাপানের কারিগরি সহায়তা প্রদানের সুযোগ উন্মুক্ত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিজস্ব ব্র্যান্ডের মোটর গাড়ি উত্পাদন, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১ প্রণয়ন ও শিল্প ডাটাবেজ তৈরিতে জাপানের কারিগরি সহায়তা, মোটরসাইকেল শিল্পের আধুনিকায়ন, বাংলাদেশে অটোমোবাইল ও হালকা প্রকৌশল শিল্পসংশ্লিষ্ট ভেন্ডার ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন, মোটরসাইকেলের সার্টিফিকেশনের জন্য অটোমোবাইল টেস্টিং অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে কারিগরি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
শিল্পমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আধুনিকায়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন, কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ভেন্ডার উন্নয়নে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে জাপানের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত দেশীয় চিনিকলের আধুনিকায়ন এবং চিনি শিল্পে পণ্য বৈচিত্র্যকরণে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে স্থাপিত জাপান ইকোনোমিক জোন গুণমানের দিক থেকে এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ জোরদার করতে হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের জন্য উদীয়মান খাতগুলো চিহ্নিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।