শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষ বাড়ছে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮৩ জন নিউজটি পড়েছেন

বিশ্বে প্রতি ৯ জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। যদিও প্রতি বছর এক বিলিয়ন টনেরও বেশি উৎপাদিত খাবার নষ্ট হচ্ছে। একদিকে বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর থেকে পৃথিবীতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে- এমন বাস্তবতায় খাদ্য নষ্ট ও অপচয়রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) সহযোগিতায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নষ্ট এবং অপচয়’ শীর্র্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব তথ্য জানান। পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়ায়েজেদের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন ও ইইউ ডেলিগেশন টু বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা) আশুন্তা তেস্তা। মিটিং দ্যা আন্ডার নিউট্রেশন চ্যালেঞ্জ প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর নাওকি মিনামিগওসি ওয়েবিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এফএওর মিটিং দ্যা আন্ডার নিউট্রেশন চ্যালেঞ্জ প্রকল্পের সিনিয়র এসডিজি স্পেশালিস্ট (খাদ্য নষ্ট ও অপচয়) আগাপি হারুতিয়ানায়ন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রেক্ষিতে খাদ্য নষ্ট ও অপচয় বিষয়ে ওয়েবিনারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে প্রতি বছর উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায়ে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয় যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে কি পরিমাণ খাদ্য অপচয় হচ্ছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো জানা যায়নি। যখন খাদ্য নষ্ট হয় তখন আসলে খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সম্পদ যেমন পানি, ভূমি, বিদ্যুৎ, শ্রম, পুঁজি ইত্যাদির অপচয় হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান ওয়েবিনারে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নষ্ট ও অপচয় শীর্ষক মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ক্রান্তীয় ফল ও ধান উৎপাদনের দিক দিয়ে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ক্রান্তীয় ফল উৎপাদনের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ঠ এবং ও ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে চতুর্থ।

তিনি বলেন, খাদ্য নষ্ট ও অপচয় সম্পর্কে বাংলাদেশে হালনাগাদ কোনো তথ্যউপাত্ত নেই। তবে এ বিষয়ে একটি গবেষণা চলমান আছে। তবে ২০১০ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন পরবর্তী সময়ে ২২ থেকে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উৎপাদন পর্যায়ের কাছাকাছি ধাপগুলোতে খাদ্য বেশি ও ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্য কম নষ্ট হয়ে থাকে; অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোতে উল্টোচিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্য বেশি নষ্ট হয়।

তিনি মনে করেন, খাদ্য নষ্ট ও অপচয়রোধে বাংলাদেশকে অবকাঠামো গড়ে তোলা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English