গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস। যাতে আমরা সুচিন্তা করতে না পারি, বিবেককে কাজ লাগাতে না পারি, আমরা সাহস হারিয়ে ফেলি। কোনো আন্দোলন যাতে না হয়, গণতন্ত্র ফিরে না আসে এজন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার সেই নীলনকশা এখনও শেষ হয়নি। তবে এবার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন। বুদ্ধিজীবীদের ভয় দেখিয়ে, মামলা দিয়ে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রলোভন দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মাধ্যমে নেতাশুন্য করার পরিকল্পনা শুধু পাকিস্তানিরা করেছে নাকি অন্য কোনো শক্তি জড়িত ছিলো তা নিয়ে বিশদ গবেষণার দরকার আছে। এই ইতিহাসগুলো বের করতে হবে। সেই সময় এসেছে।
তিনি বলেন, মানুষ স্বাধীনচেতা হলে জাগরিত হয়, প্রশ্ন করতে শেখে। আজ আমরা যেন সেই প্রশ্ন করার অধিকারটা না পাই, মানুষ যেন প্রশ্ন না করে সেজন্যই সেই নীলনকশা অব্যাহত আছে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন এক ব্যক্তির ভাস্কর্য ভাঙাটাই অপরাধ, অন্য ভাস্কর্য ভাঙা যেন অপরাধ নয়। আমি বলবো, প্রত্যেকটা ভাস্কর্য ভাঙাই অপরাধ। গণস্বাস্থ্যের এন্টিবডি টেস্টের অনুমোদন আজও দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এন্টিবডি টেস্ট আমরা উদ্ভাবন করেছিলাম। আজকে পর্যন্ত গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত এন্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অথচ এরজন্য বারবার আমেরিকা থেকে যোগাযোগ করেছে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমাদের কথা হলো- মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিন। আমরা ভোটের অধিকার চাই, আমরা কথা বলার অধিকার চাই, আমরা নিজেদের মতো করে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বো।
মান্না বলেন, পদ্মা সেতু বানানোর শুরুতে বলা হয়েছিলো- সেতু বানাতে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু পদ্মা সেতুর এই পার থেকে ওই পারে শুধুমাত্র স্প্যান বসাতে গিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তাহলে পদ্মা সেতু চালু করতে কত টাকা লাগবে?
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আসুন এ মুহূর্তে বাংলাদেশে গণবিপ্লব ঘটিয়ে অবৈধ সরকারকে বৈধভাবে দেশ থেকে বিতাড়িত করি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে একাংশ সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, আইনজীবী এবিএম রফিকুল হক প্রমুখ।