টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের কারণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে জোয়ারও শুরু হয়। এতে পানি জমে জলাবদ্ধতা হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে নগরের চকবাজার, বাদুরতলা, সরাইপাড়া, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া ও বহদ্দারহাটসহ নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক জায়গায় বাসা বাড়ি, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে নগরে। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নগরের হালিশহরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, পিসি রোডের সরাইপাড়া এলাকয় বৃষ্টিতে পানিতে জমে যায়। কয়েক ঘণ্টায়ও পানি নামেনি। এমনিতে রাস্তার অস্তিত্ব নেই। পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি। জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ চললেও কবে এই দুর্ভোগ নিরসন হবে জানি না।
সরেজমিন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের পুরো নিচতলায় হাটু সমান পানি। রোগীদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে স্বজনরা। হাসপাতালের স্পর্শকাতর ক্যান্সার ওয়ার্ডটিও পানিতে ডুবে গেছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। এই প্রকল্পের আওতায় নগরের খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং রেগুলেটর নির্মাণের কাজ চলছে। নগরের জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ নিরসনে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার নালা সম্প্রসারণ এবং ১০ কিলোমিটার নতুন নালা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী। তিনি বলেন, ‘নগরের জলাবদ্ধতা প্রবণ ২২ টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে কাজ চলছে। বৃষ্টি আর জোয়ার একই সময় হওয়াতে কিছু এলাকায় পানি জমছে। তবে বৃষ্টি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পানি নেমে যাচ্ছে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করার জন্য প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ আর থাকবে না।’
এ দিকে ২০১৭ সালের অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নগরের ৩৬টি খাল থেকে প্রায় তিন হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসব খালের বিভিন্ন অংশে প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকার জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনে মহেশখালের মুখে রেগুলেটর নির্মাণ কাজ চলছে।