রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

বৃষ্টিতে সবজির দাম বাড়তি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

কুমিল্লা, মেহেরপুর ও নরসিংদীর হাট-বাজারে সবজির দাম বেশি। আবার পাইকারি ও খুচরা সবজির বাজারে দামের তফাত অনেক। যেমন মেহেরপুরে সবজি পাইকারি থেকে খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। আর কুমিল্লায় পাইকারির তুলনায় খুচরায় কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি। চাষি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষেতে সবজি নষ্ট হয়েছে। সবজি উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ বা জোগান কম। এ জন্য দাম বেশি।

মেহেরপুরে অতিবৃষ্টিতে সবজি উৎপাদনে ধস নামায় বাজারে চাহিদার জোগান দিতে পারছেন না চাষিরা। ফলে দাম বেড়েই চলেছে। গত কয়েক বছরে দাম এই পরিমাণে বাড়েনি। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাষিরা সবজি উৎপাদন করে বিক্রি করেন মেহেরপুরের আড়তপট্টিতে। সেই আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিয়ে বেচেন মাত্র কয়েক গজ দূরত্বের কাঁচাবাজারে। এতেই সবজির দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে যায় ১০ থেকে ২০ টাকা।

গতকাল শুক্রবার মেহেরপুরের বড়বাজারের কাঁচাপট্টি ও আড়তপট্টিতে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি শসা পাইকারি ৬০, খুচরা ৮০ টাকা; পটোল পাইকারি ৪৫, খুচরা ৬০; করলা পাইকারি ৫০, খুচরা ৫৫; কাঁকরোল পাইকারি ৪০, খুচরা ৫০; বেগুন পাইকারি ৫০, খুচরা ৬০; আলু পাইকারি ৩৩, খুচরা ৩৮; কচু পাইকারি ২৫, খুচরা ৩০; পেঁয়াজ পাইকারি ৬০, খুচরা ৮০; রসুন পাইকারি ৮০, খুচরা ৯০; পেঁপে পাইকারি ২০, খুচরা ৩০; আগাম বাঁধাকপি পাইকারি ২০, খুচরা ৩০; গাজর পাইকারি ১০৫, খুচরা ১২০; টমেটো পাইকারি ৯০, খুচরা ১১০; লাউ পাইকারি ৪২, খুচরা ৫০; ঢেঁড়স পাইকারি ৩৫, খুচরা ৪৫; ঝিঙা পাইকারি ৪০, খুচরা ৫০; কাঁচা মরিচ পাইকারি ১৪০, খুচরা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুকচাঁদ সবজি ভাণ্ডারের মালিক শফিকুল ইসলাম ও আবুল কাশেম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা এখন কম কাঁচামাল বাজারে আনছেন। গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে জোগানের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ঢাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মামুন বলেন, ‘আমি মেহেরপুর থেকে করলা ও পটোল কিনে ঢাকায় পাঠাই। প্রতিদিন ৮০০ কেজি পাঠাই। কিন্তু জোগান কম থাকায় ২০০ কেজি পাঠাতে হচ্ছে।’ কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ ও রিন্টু হোসেন জানান, কাঁচামালের বেশির ভাগই ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। তাই তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল পাচ্ছেন না। তাই দাম একটু বেশি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির বাজার কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার বাজার থেকেই কুমিল্লা অঞ্চলের খুচরা বাজারগুলোতে শাক-সবজি সরবরাহ হয়। এখানে পাইকারি দামের তুলনায় খুচরা বাজারে সবজির দাম চড়া। আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের একই সুর—টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম হওয়ায় পাইকারি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরায় দাম বেশি। নিমসার বাজারের ঢাকা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী ইকরাম হোসেন জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এক মাস ধরে দামও ওঠানামা করছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে আগাম শীতকালীন ফসল পর্যাপ্ত আসছে না। বৃষ্টি কমলে অন্তত এক মাস লাগবে দাম স্বাভাবিক হতে।

গতকাল নিমসারের পাইকারি ও কুমিল্লানগরের রাজগঞ্জ বাজারের সবজির দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাইকারির তুলনায় খুচরা বাজারে সবজি কেজিতে কমপক্ষে ১০ টাকা বেশি। কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজারে দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা খুচরা বাজারে ২০০ টাকা; শসা পাইকারি ৫০ থেকে ৬০, খুচরা ৮০; পটোল পাইকারি ৪৫, খুচরা ৬০; টমেটো পাইকারি ৮০, খুচরা ১০০; লম্বা বেগুন পাইকারি ৫০ থেকে ৬০, খুচরা ৬০ থেকে ৭০; কচুমুখী পাইকারি ৩০, খুচরা ৪০; মিষ্টিকুমড়া পাইকারি ২৫, খুচরা ৩৫; ঢেঁড়স পাইকারি ৬০, খুচরা ৭০; ঝিঙা পাইকারি ৬০, খুচরা ৭০ টাকা। রাজগঞ্জ বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা কবির আহমেদ জানান, পাইকারি দাম কমলে খুচরায়ও দাম কমবে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন তথা জোগান কম থাকায় কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি নরসিংদীর পাইকারি হাটগুলোতে আনামাত্রই কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। তাতে কৃষকরা মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছেন। শিবপুরের সফরিয়া এলাকার পাইকার সবুজ মিয়া জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজি নেই। তাই পাইকারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি। আবার সবজি ঢাকা নিয়ে বিক্রি করতে পরিবহন খরচসহ দাম অনেক পড়ে। শীতের সবজি না আসা পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

ধানুয়া এলাকার কৃষক মহসীন মিয়া বলেন, ‘করোনার সময় সবজি বিক্রি করতে পারিনি। পরিবহন চলাচল না করায় হাটেই সবজি নষ্ট হয়েছে। সেই ক্ষতি পোষাণোর সুযোগ নেই।’

গতকাল সকালে শিবপুর ও সিঅ্যান্ডবি পাইকারি সবজির হাটে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁকরোল ৫০ থেকে ৫৫, প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৪৫, ধুন্দল ৩৫ থেকে ৪০, ঝিঙা ৬৫ থেকে ৭০, বেগুন ৭০ থেকে ৭৫, পটোল (দেশি) ৫০, পেঁপে ১৫ থেকে ২০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৫৫, বরবটি ৫৫ থেকে ৬০, করলা দেশি ৭৫ থেকে ৮০ আর হাইব্রিড ৬৫ থেকে ৭০, মুলা ৪৫ থেকে ৫০, শিম ১৩০ থেকে ১৪০, পেসতা আলু ৫০ থেকে ৫৫, কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ থেকে ৩০, মিষ্টিকুমড়া (কাঁচা) ৫০ থেকে ৬০, শসা ৭০ থেকে ৮০, কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০, পুঁইশাক ২৫ থেকে ৩০, লালশাক ৩০ থেকে ৩৫, লাউশাক ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা এবং মেহেরপুর ও নরসিংদী প্রতিনিধি]

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English