বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা বিকৃত করে ক্যাম্পাসে বিজয় উদযাপন করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। ছবিতে দেখা যায় ডিজাইন পরিবর্তন করে ওই শিক্ষকরা সবুজের মধ্যে লালবৃত্তের পরিবর্তে চারকোনা লাল আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকা। ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের নজরে পড়লে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেন।
বিজয় দিবসে নিজেদের মতো করে তৈরি করা জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তোলায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই সব শিক্ষকরা। এ শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশের নানা পেশার মানুষ।
ছবিতে দেখা যায় বিকৃত জাতীয় পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসাইন, ইতিহাসের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাসুদুল হাসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাম প্রসাদ, সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বাসক রহমতউল্লাহ।
এদিকে, বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকার অবমাননা করায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর তাজহাট থানায় এই অভিযোগ করেন। তাজহাট হাট থানার ওসি ( তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অভিযোগ কারী থানায় দাখিল করা তার লিখিত অভিযোগে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ফলকের সামনে জাতীয় পতাকার সবুজের মধ্যে লাল অংশ গোলাকার না করে বিকৃতি করে আয়তকার করে প্রদর্শন করা হয়েছে।
এছাড়া পতাকাটি নিম্নমুখী করে পায়ের নিচে ফেলা হয়। যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বর্মণ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসেন, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী প্রক্টোর ও সহকারি অধ্যাপক মাসুদুল হাসান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের রাম প্রসাদ বর্মণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক বাসক রহমতুল্লাহ, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম, পিএস আমিনুর রহমান।
এছাড়া আরো ৮/৯ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয় ৪ নং আসামী বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট দিলে ১৭ ডিসেম্বর সবার দৃষ্টি গোচর হয়। এছাড়া আসামীরা স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে জাতীয় পতাকার বিধি মামলার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এর আগে ছাত্রলীগ ও মহানগর যুবলীগ এ ঘটনার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এদিকে ওই ছবিতে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি তাবিউর রহমান, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান। এটিকে অনভিপ্রেত বলেও দাবি করেন।