রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

মসজিদে চাই ইবাদতের অনূকুল পরিবেশ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

মসজিদের সঙ্গে মুমিনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মসজিদ ছাড়া ঈমানি জীবন কল্পনা করা যায় না। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে যেতে হয়। ইসলামী সমাজ মসজিদকেন্দ্রিক পরিচালিত হয়। এ জন্যই রাসুল (সা.) প্রত্যেক মহল্লায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মসজিদ নির্মাণের ফযিলত বর্ণনা করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) প্রত্যেক মহল্লায় মসজিদ তৈরির নির্দেশ প্রদান করেছেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৫৯৪; আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৫)। আরেক হাদিসে নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ গৃহ নির্মাণ করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১২১৮)

মসজিদ নির্মাণে জমি ক্রয় ও স্থাপনায় নীতিমালার অনুসরণ : মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণ, জমি ক্রয় এবং স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। তাহলে প্রকৃত মসজিদ হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া খাসজমিতে অথবা মসজিদের জন্য (লিখিত বা মৌখিক) বরাদ্দ ছাড়া বা রেজিস্ট্রি ছাড়া কোনো স্থানে মসজিদ নির্মাণ করলে সেখানে নামাজ হয়ে গেলেও তা প্রকৃত মসজিদ বলে বিবেচিত হবে না। রাসুল (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করলেন। এরপর স্থান নির্বাচন করলেন। এবার সেই স্থানের মালিক সম্পর্কে লোকদের কাছে জানতে চাইলেন। লোকেরা বলল, এ স্থান বনু নাজ্জারের দুই এতিম বালকের। তাদের নাম সাহল ও সুহাইল। তারা আসআদ ইবনে যুরারার প্রতিপালনে রয়েছে। নবী (সা.) তাদের ডেকে পাঠালেন। তারা এলে তাদের কাছে জমিটি ক্রয়ের প্রস্তাব দিলেন। তারা দান করতে চাইলেও নবী (সা.) তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। তাদের অভিভাবকের সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত করে উপযুক্ত মূল্যে তা ক্রয় করলেন। সেখানে কিছু খেজুরগাছ ছিল, নবী (সা.) সেগুলো কাটালেন। কাঁচা ইট বানানোর নির্দেশ দিলেন। এরপর সবার সহায়তায় মসজিদ নির্মাণ করলেন। (সিরাতুল মুস্তাফা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৫)

নবী (সা.) চাইলে মদিনার কোনো পরিত্যক্ত স্থানে অথবা মূল্য পরিশোধ না করেও মসজিদ নির্মাণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি পরিকল্পিতভাবে এবং জমি ক্রয় ও গৃহ নির্মাণের তৎকালীন স্বাভাবিক নীতিমালা অনুসরণ করে মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

মসজিদে ইবাদতের অনূকুল পরিবেশ তৈরি করা : মসজিদে মুসল্লিদের ইবাদতের অনূকুল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা হতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুগন্ধময় রাখতে হবে। যেন মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে। নিজের কফ-থুতু, নাকের ময়লাসহ হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও যেন কোনো ধরনের ময়লা মসজিদে না পড়ে—সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘এবং ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৫)

রাসুল (সা.) মসজিদকে পাক-পবিত্র এবং সুগন্ধময় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৫৯৪; আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৫)

নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে কোনো ময়লা বের করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে গৃহ নির্মাণ করেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৫৭)

মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা : মসজিদ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মুসল্লিরা যেন নিরাপদে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে, সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। মুসল্লিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, বিপজ্জনক বিদ্যুৎ সংযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পাখা-বাতি ইত্যাদি অপসারণ করতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নিজেদের কৃতকর্মের মাধ্যমে যেন নিরাপত্তায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। এই নিরাপত্তা তো আল্লাহই দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা তো বাক্কায় (মক্কায়), তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারি। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন—মাকামে ইবরাহিম। আর যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬-৯৭)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English