মিয়ানমারে বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টার সময় ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
রাজধানী নেপিদোসহ সাতটি রাজ্য ও সাতটি অঞ্চলে একযোগে ভোট চলছে। দেশটিতে সামরিক শাসনের অবসানের পর এটি দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন। অং সান সু চি ও তার দল এনএলডি ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ৫০ বছর ধরে সামরিক শাসনে থাকার পর মিয়ানমার পায় প্রথম বেসামরিক সরকার।
এ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার। খবর আল জাজিরার
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ নির্বাচনে ১ হাজার ১১৭টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৮৩টি রাজনৈতিক দল এবং ২৬০ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ৫ হাজার ৬৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৫ জন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ (নিম্নকক্ষ), ৭৭৯ জন হাউস অব ন্যাশনালিটিস (উচ্চকক্ষ), আঞ্চলিক বা রাজ্য সংসদগুলোর জন্য ৩ হাজার ১১২ জন এবং জাতিগত সংখ্যালঘু আসনের জন্য ১৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) হয়ে লড়ছেন ১ হাজার ১০৬ জন প্রার্থী এবং ইউএসডিপি’র হয়ে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ৮৯ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে কোনো দলকে দুই কক্ষবিশিষ্ট দেশটির সংসদের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে কমপক্ষে ২২১টি এবং হাউজ অব ন্যাশনালিটিসে কমপক্ষে ১১৩টি আসন জয় করতে হবে।
নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন।
সাধারণ নির্বাচন হলেও এবার বেশ কয়েকটি স্থানে ভোট প্রদানের কোনো ব্যবস্থা করেনি দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে রাখাইন রাজ্যসহ ৫৬টি শহরে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে না৷ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে।