রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

যাত্রীরা যাবেন কীভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন
লকডাউন অকার্যকর, এখন করণীয় কী

গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেক বহনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার । এমন নির্দেশনা বাস্তবায়ন হওয়ায় রাজধানীতে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। যানবাহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হলেও অফিস ও কর্মক্ষেত্র এখনও পুরো জনবল নিয়েই চলছে। তাই কর্মজীবীদের বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। গণপরিবহনের সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে গতকাল রাজধানীর খিলক্ষেতে বিক্ষোভও করেছেন সাধারণ মানুষ।

অফিস-আদালত, বাজার-ঘাট সবকিছু খোলা রেখে গণপরিবহনে যাত্রীসংখ্যা অর্ধেক করায় এই ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা পড়েছেন মহাবিপাকে। নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো চরমে। এদিকে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও সড়ক, ফুটপাথ ও বাস স্টপেজগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সকাল থেকেই স্টপেজগুলোতে উপচে পড়া ভিড় যাত্রীদের। প্রতিনিয়ত বাসে উঠতে যুদ্ধ করছেন তারা। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে বাসে উঠতে পারেননি। এতে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছতে হিমশিম খেয়েছেন অনেকেই। গণপরিবহনে আসন সংখ্যা কমানোয় সড়ক ও ফুটপাথে জনসমাগম বেড়েছে। অনেকে সড়ক ধরেই দলবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। তাদের অনেকই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, সড়কে বাস থাকলেও যাত্রীরা উঠতে পারছেন না। অনেকই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বাসে উঠতে না পেরে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে ফিরছেন। তাদের সবার মুখে মাস্ক নেই, অনেকের থুতনিতে মাস্ক ঝুলতে দেখা গেছে। এতে সড়কে ও ফুটপাথে চাপ বেড়েছে। ফুটপাথে দুইদিক থেকে জনগণ এলামেলোভাবে আসা-যাওয়া করছেন। এতে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী আর খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম বিড়ম্বনা ও সীমাহীন দুর্ভোগে।

বাসে উঠতে না পেরে কাওরান বাজার ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মো. সাদেক মিয়া। তিনি বলেন, দেশে করোনা বাড়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা অর্ধেক করা হয়েছে। এতে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। না পেয়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। এখন ফুটপাথে জনসমাগম বেড়েছে। মানুষের জন্য ফুটপাথ খালি নেই। সেখানে বাসের চাইতে বেশি মানুষ গিজগিজ করে। ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করছে। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরো বেশি থাকবে।

এদিকে গণপরিবহন সংকটে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা গতকাল সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এতে সড়কের দু’দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বাস থেকে যাত্রীরা সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বলছেন, কারো অফিস সকাল নয়টা। আবার কারো ১০টা। গণপরিবহণে যাত্রীসংখ্যা অর্ধেক করায় তারা সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টপেজে দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারছেন না। প্রায় প্রতিটি বাসের দরজা বন্ধ। বাড়তি ভাড়া দিয়েও বাস মিলছে না। নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিক্ষোভকারী যাত্রীরা বলছেন, রাজধানীতে বুধবার থেকে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। সর্বত্র অফিস আদালত খোলা রেখে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনছেন। হাট-বাজারে মানুষের সমাগম বেড়েছে। অথচ বাসে মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে ফুটপাথ ও সড়কে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণপরিবহনের চাইতে সড়কে চলাচল বেশি হুমকি। করোনার সংক্রমণ সড়ক থেকেও বিস্তার ঘটতে পারে।

তারা বলছেন, সরকারের উচিত বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা। যাত্রীদের চলাচলে স্থায়ী সমাধান দেয়া।
রোমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। যাত্রীরা বাসে উঠতে না পারায় স্টপেজে জমায়েত হচ্ছেন। এতে আরো বেশি বিপদ হতে পারে। এতে স্বাস্থ্যবিধিও মানা সম্ভব হবে না। জনগণের দুর্ভোগও কমবে না।

কাওরান বাজারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রবিউল আলম। তিনি বলেন, অফিসের কাজে গাজীপুর থেকে কাওরান বাজার আসছেন। এখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রায় ঘণ্টাখানিক সময় বাসে ওঠার জন্য চেষ্টা করছেন। বেশিরভাগ বাসের গেট বন্ধ। গুলিস্তান থেকে বাস ভর্তি হয়ে আসছে। তার মতো আরো অনেকই বাসের জন্য অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারছেন না।

রুহুল আমিন নামের আরেক যাত্রী জানান, বাসে যাত্রী সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি। বেতন তো বৃদ্ধি পায়নি। বাসে না উঠলে রিকশায় করে অফিসে যেতে হবে। এতে বেতনের পুরোটাকা যাতায়াতে চলে যাচ্ছে। এই ভোগান্তির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা সম্ভব হবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English