ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো সংখ্যাই তাৎপর্যময় নয়, তবে নানা ঘটনা ও তাৎপর্যময় বিষয়ের সংশ্লিষ্টতায় কোনো কোনো সংখ্যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। মুসলিম ইতিহাসে ১২ সংখ্যাটিও তেমনি স্মরণীয় হয়ে আছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবসভ্যতার দীর্ঘ নেতৃত্বের ইতিহাস।
বনি ইসরাঈলের ১২ নেতা : পবিত্র কোরআনে বনি ইসরাঈলের এমন ১২ নেতার উল্লেখ রয়েছে, যাঁরা তাঁদের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তো বনি ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে নিযুক্ত করেছিলাম ১২ জন নেতা।…’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১২)
উল্লিখিত আয়াতে নেতাদের বোঝাতে ‘নাকিব’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। নাকিব বলা হয় জাতির পথপ্রদর্শকদের। আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম তাবারি (রহ.) লিখেছেন, বনি ইসরাঈলের ১২টি গোত্র থেকে ১২ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়। তাঁরা হলেন, শামুন বিন জাক্কুন, শাফাত বিন হুররা, কালিব বিন ইউফান্না, ইউজাইল বিন ইউসুফ, ইউশা বিন নুন, ফালত বিন রাফুন, জুদা বিন সাউদা, জুদা বিন সুসা, হামলাইল বিন জামাল, সাতুল বিন মুলকাইল, নুহা বিন ওয়াফাসি এবং জুলাইল বিন মিকাইল। (তাফসিরে তাবারি)
বনি ইসরাঈলের ১২ গোত্র থেকে ১২ জন নেতা নির্বাচনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ার ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং সেখানে আল্লাহর দ্বিন প্রতিষ্ঠা করা। এ ছাড়া নিজ নিজ গোত্রকে সুপথে পরিচালিত করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখাও তাঁদের দায়িত্ব ছিল। আয়াতের অবশিষ্ট অংশ থেকে এমনটিই ধারণা পাওয়া যায়।
জীবন রক্ষাকারী ১২ ঝরনা : ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি লাভের পর আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ১২ জন নেতার মতো বিশুদ্ধ পানির ১২টি প্রস্রবণ দান করেছিলেন। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো। ফলে তা থেকে ১২টি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানস্থান চিনে নিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬০)
রাসুলের হাতে শপথ নিয়েছিলেন ১২ সাহাবি : সুরা মায়িদার ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের বরাতে বলেছেন, উকবার রাতে মহানবী (সা.)-এর হাতে ১২ জন সাহাবি শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকে ছিলেন নিজ গোত্রের নাকিব বা নেতা। ১২ জন সাহাবির মধ্যে আউস গোত্র থেকে তিনজন এবং খাজরাজ গোত্র থেকে ৯ জন। আউসের তিন হলেন উসাইদ বিন হুদাইর, সাদ বিন খাইসামা ও রিফায়া বিন আবদুল মুনজির (রা.) এবং খাজরাজ থেকে আবু উমামা আসআদ বিন জাজারাহ, সাদ বিন রাবিআ, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা, রাফি বিন মালিক, বারা ইবনে মারুর, উবাদা বিন সামিত, সাদ বিন উবাদা, আবদুল্লাহ বিন আমর, মুনজির বিন আমর (রা.)। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
মুসলিম উম্মাহর ১২ নেতা : জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষের জন্য কল্যাণ অব্যাহত থাকবে যত দিন তাদের শাসন করবে ১২ জন ব্যক্তি।… তাদের সবাই হবে কোরাইশ বংশীয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮২১)
সুরা মায়িদার ১২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) আরো বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহকে ১২ জন মহান নেতা পথ প্রদর্শন করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার খলিফা ও ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)।