বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

যুবলীগ নেতাকে গাড়িচাপার পর অস্ত্র হাতে নাচানাচি কাউন্সিলর জলিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১
  • ১১০ জন নিউজটি পড়েছেন
যুবলীগ নেতাকে গাড়িচাপার পর অস্ত্র হাতে নাচানাচি কাউন্সিলর জলিলের

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলের বিরুদ্ধে শুক্রবার বিকেলে মহানগর যুবলীগ নেতা রোকন উদ্দিন রুকনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর জলিল নগরীর চকবাজারের তেলিকোনা চৌমুহনী এলাকায় অবস্থিত তাদের একটি পেট্রোল পাম্পে যান। এ সময় দুই হাতে দু’টি রামদা নিয়ে নাচানাচি করেন তিনি। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ সময় তার পরনে একটি টি-শার্ট ছিল।

এরপর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকবাজারের কাশারীপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় তিনি পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তার হাতে ছিল একটি রামদা।

আটকের আগে জলিল দেশিয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির ধারণা করা তিন মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশের সদস্যরা কাউন্সিলর জলিলকে আটক করতে গেলে সে ধস্তাধস্তি করে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে কয়েকজন নারীও তাকে সহযোগিতা করেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে বাগে আনতে পুলিশ তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে মাটিতে লুটে পড়েন জলিল। পরে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এদিকে যুবলীগ নেতা রোকনকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

রোকন উদ্দিন কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক জানান, আহত রোকন উদ্দিন রুকন নিজেই বাদী হয়ে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। এখনো রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলার প্রতিবাদে যুবলীগ নেতা রোকনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয় চকবাজার এলাকায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি নিয়ে এসে রোকনকে চাপা দেন কাউন্সিলর জলিল। এতে তার বাম পা ভেঙে যায় এবং ডান পা গুরুতর জখম হয়। এ সময় কোমড় থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলিও চালান জলিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি।

কাউন্সিলর জলিল আগে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বর্তমান সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর অনুসারী। চলতি মাসের শুরুতে চকবাজার বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়ান তিনি। এতে কোনঠাসা হয়ে গত ৫ মার্চ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আনজুম সুলতানা সীমার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।

গত সিটি নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে জলিল বিএনপির সমর্থিত আর যুবলীগ নেতা রোকন আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হন রোকন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English