শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ও প্রতিকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ৭২ জন নিউজটি পড়েছেন
রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ও প্রতিকার

কেবল নিউমোনিয়া নয়, বরং রোগীর ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে থাকায় অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে রোগীদের ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য রোগীদের টেস্ট ও রিপোর্টে দেখা যায়, প্রায় ৪০ শতাংশ করোনা-আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি। মাস চার পরে বোঝা গেল, করোনার মেকানিজমই হলো রক্ত জমাট বেঁধে ফেলা।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের অনেকগুলো রূপ দেখা গেলেও, রক্ত জমাট করে ফেলা একটি স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসকেএফ নিবেদিত ‘হৃদয়ের সুরক্ষা’ অনুষ্ঠানের ১৪তম পর্বে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিষয় ছিল, ‘রক্ত জমাট বাঁধা সমস্যা ও প্রতিকার’। অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডা. উজ্জল কুমার মল্লিক, মহাসচিব বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, সহকারী অধ্যাপক, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. নাদিয়া নিতুল।

ডা. উজ্জল কুমার মল্লিক বলেন, সম্প্রতি করোনার ভ্যাকসিন নিলে রক্ত জমাট বাঁধে, এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। আমাদের খাদ্যাভ্যাস, অলসতা, শরীরে মোটাভাব এবং অন্যান্য অনেক কারণে রক্ত জমার প্রবণতা এমনিতেই বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ শরীর এবং ভ্যাকসিন গ্রহণ করা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতার খুব একটা পার্থক্য নেই।

রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণগুলো কী কী? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শরীরের অবস্থা দেখে আগে থেকেই অনুমান করা যায়, কার রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যাঁরা বৃদ্ধ এবং কিডনি ও হার্টের সমস্যা রয়েছে, ক্যানসারের ওষুধ খান বা খেতেন, যেসব নারী সন্তানসম্ভবা এবং নিয়মিত পিল গ্রহণ করেন, তাঁরা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিতে থাকেন। জ্বর এলেও ধরে নেওয়া যায়, শরীরে কোনো একটি ইনফেকশন প্রতিরোধের প্রয়োজন হয়েছে। শতভাগ নিশ্চিত হতে ডিডাইমার এবং ইন্টারলিউকেন সিক্স টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া যায়, শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে কি নেই।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যই হলো তার মিউটেশন হবে। সম্প্রতি ভারতে করোনার ট্রিপল মিউটেশন হয়েছে। এর একটি কারণ ছিল অসচেতনতা। আমরা শুরু থেকেই সংক্রমণ বাড়লেই লকডাউনে চলে গেছি, এখনো সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলার চেষ্টা করছি। আমরা যদি সতর্ক থাকি, সচেতন থাকি, এখনো সম্ভব নিজেকে নিরাপদ রাখা।

রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য অনেক এপিএস রোগী নিয়মিত ওষুধ খান, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নারীদের পিরিয়ডের সময় অনেক রক্ত বের হয়ে যায়। সারা বছরই এদের রক্তস্বল্পতা থাকে এবং রক্ত নিতেও হয়। তাঁরা এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এড়াতে ঋতুস্রাবের কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা আগে ওষুধ বন্ধ রাখতে পারেন।

ঈদ সামনে। মানুষ ব্যস্ত ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। সারা জীবন ঘরে বসে থাকা সম্ভবও না। তবু ডা. উজ্জল কুমার বললেন, দেশের স্বার্থে নিজেকে ও অন্যকে নিরাপদ রাখা আমাদের সবার কর্তব্য। তাই এই মুহূর্তে একটিই সৎকাজ আমরা করতে পারি, তা হলো মাস্ক পরা।

যাদের কোভিড-রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে বা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় এসেছেন, তাঁদেরও নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে, প্রেসক্রাইবড মেডিসিন নিতে হবে এবং নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে ফলোআপ করতে হবে। একটু সচেতন হলে এবং মাস্ক পরলেই আমরা কোভিডের যেকোনো ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারব।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English