মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

রাতের আধারে মধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৭৯ জন নিউজটি পড়েছেন

রাতের আধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে স্থাপিত ‘মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্য’ এর কান বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কে কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে এ সম্পর্কে জানে না কেউ। খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই রাতে ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশটি পুনঃস্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।

ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন। রাজনীতি, সংস্কৃতি চর্চা এবং আড্ডার জন্য মধুর ক্যান্টিনের আলাদা খ্যাতি রয়েছে। ক্যান্টিনটির সামনেই মধু সূদন দে’র ভাস্কর্য। বিশ^বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, কলা ভবন ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) কেন্দ্রস্থলে এই ক্যান্টিনটি।

মধুর ক্যান্টিনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জন্মইতিহাস। ৪৮-এর ভাষা আন্দোলন, ৪৯-এর বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, ৫২-র আগুনঝরা দিন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী যুদ্ধ, ১৯৫৮-৬০ সালের প্রতিক্রিয়াশীল বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এ সবকিছুর সঙ্গে মধুর ক্যান্টিনের নাম জড়িয়ে আছে গভীর ভাবে।

মধুর ক্যান্টিনের সত্ত্বাধিকারী মধুসূদন দে’র সন্তান অরুন কুমার দে বলেন, ভাঙার একদিন আগের রাতেও আমরা এটি ঠিকঠাক ভাবে দেখি। পরে ভাস্কর্যের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকতে দেখি। প্রক্টরিয়াল টিমকে জানালে তারা সাথে সাথে বিচ্ছিন্ন হওয়া কানটি লাগিয়ে দেয়।

মধু সূদন দে’র কান বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা গতরাতে মধুদার ভাস্কর্যের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকার খবর পাই। সাথে সাথে আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম এটিকে মেরামত করে দিয়েছে মর্মে আমাদের কাছে জানিয়েছেন। আমরা সেটা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ভাস্কর্যের আঘাতটি খেয়ালের বশে হয়েছে, নাকি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে, তা এখনো জানা যায়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে কাজটি করেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English