শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগে নীতিমালা শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন
আসুন জানি, মিউচুয়াল ফান্ড কী ও বিনিয়োগে কী সুযোগ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগের নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। এ অর্থ বহুমুখী বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আরও বেশি পরিমাণে জাপানি বন্ড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এজন্য বন্ড কেনার কোটার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বন্ড কিনতে পারত।

নীতিমালা শিথিল করার পর এখন কিনতে পারবে ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা ৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট নীতিমালার সংশোধনী সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পর্ষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওই নীতিমালা কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের অনুমোদন নিয়ে সংশোধন করতে পারে। তবে সেটি পর্ষদকে অবহিত করতে হয়।

সূত্র জানায়, জাপানের অর্থনীতি অনেক দিন ধরেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগোচ্ছে। প্রতিযোগিতার কারণে তাদের মুদ্রার মানও অনেকটা কম রেখেছে। একই সঙ্গে ওঠানামা করছে। বর্তমানে ১ ডলার সমান ১০৯ ইয়েন। এক ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৫ টাকা। বাংলাদেশি এক টাকার সমান জাপানের ১ দশমিক ২৬ ইয়েন। অ

র্থাৎ জাপানি মুদ্রার চেয়ে টাকার মান বেশি। দুই মুদ্রার মধ্যে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতাও বেশ। এছাড়া চলতি বছরে জাপান আরও বেশি সুদে মোটা অঙ্কের বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এ বন্ডে সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগে ছিল ১ শতাংশের কম। এ বন্ডে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব জাপান’র গ্যারান্টি রয়েছে।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ দিয়ে জাপানি বন্ড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী জাপানি বন্ড সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি ইয়েন কিনতে পারে। এখন যেহেতু তারা সুদের হার বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এ বন্ডে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যালোচনা করে দেখেছে এতে বিনিয়োগ করা অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত এবং লাভজনক। সে কারণে এতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জন্য নীতিমালা সংশোধন করে কোটার পরিমাণ বাড়িয়েছে। ফলে এখন সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি ইয়েন বন্ড কিনতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো একক মুদ্রায় দেশের রিজার্ভের অর্থ মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ করে না। এজন্য নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত একটা কোটা রয়েছে। এ কোটার বেশি কোনো একক মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হলে এর সংশোধন দরকার। সে কারণেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, রিজার্ভের ঝুঁকিমুক্ত বহুমুখী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে রিজার্ভের অর্থ থেকে ঋণ দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কমিটি গঠন করেছে এর সঙ্গে এ নীতিমালা সংশোধনের কোনো সম্পর্ক নেই।

সূত্র জানায়, রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন দেশের সরকারি খাতের বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এ থেকে প্রতি বছর অর্থ আয় হয়। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোও এখন বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। এসব বন্ডে ভালো মুনাফাও দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের রিজার্ভের বড় অংশই বিনিয়োগ করা হয় ডলারে। এরপর ইউরো ও পাউন্ডে।

রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভালো মুনাফা করে। মুদ্রার দাম ওঠানামার ফলে বেশিরভাগ মুদ্রার দাম বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুদ্রার ওঠানামা থেকে গড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ৪২৭ কোটি টাকা। আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ থেকে আয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে গড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে গত অর্থবছরে আয় কমে গেছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে লন্ডন শেয়ার বাজারে বাংলা বন্ড ছেড়েছে। এ বন্ডের মাধ্যমে সংস্থাটি ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ১৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। এটি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিনেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English